ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা পরীক্ষা করে ‘ভুল রিপোর্ট’ দিচ্ছে প্রাভা হেলথ বাংলাদেশ। শুধু ভুল রিপোর্টই দিচ্ছে না, কারো রিপোর্ট পজিটিভ দেখিয়ে তাকে চিকিত্সা-সহায়তা দেওয়ার জন্য নানা ধরনের প্যাকেজ দিয়ে বারবার মেইল ও এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। তাদের এমন ভুল রিপোর্টের শিকার হয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের পরিবার। বারবার রিপোর্টটি পুনরায় চেক করার অনুরোধ করলেও তারা সেটা করেনি।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে ডা. মাহফুজ শফিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ে জেইন শফিক ইংল্যান্ডে স্কলারশিপ পেয়েছে। গত শুক্রবার ভোরে তার ফ্লাইট ছিল। এই কারণে গত বুধবার বিকাল ৫টায় আমার স্ত্রী ডা. ফারজানা রহমান, বড় মেয়ে বায়ান শফিক ও ছোট মেয়ে কোভিড পরীক্ষার জন্য বনানীর প্রাভা হেলথে গিয়ে নমুনা দেয়। রাত ১২টার দিকে তাদের মেইলে জানানো হয় সবার পজিটিভ এসেছে। যেহেতু কারো কোনো সিমটম নেই, তাই আমি দ্রুত তাদের ফোন করে আবার একটু পরীক্ষা করার অনুরোধ করি। তখন তারা জানায়, তাদের মেডিসিন খুবই অত্যাধুনিক, কখনই ভুল রিপোর্ট আসে না। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই মেইলে ও এসএমএসের মাধ্যমে পজিটিভ রোগীদের বিভিন্ন প্যাকেজের অফার আসতে থাকে। দুইবার তারা ফোন করেও নানা ধরনের অফারের কথা বলেন। তখনই আমার সন্দেহ হয়, এত প্যাকেজ কেন তারা দিচ্ছে? কোনো সিমটম তো নেই। যেহেতু আমি স্ত্রী ও দুই কন্যার সঙ্গে একসঙ্গেই থাকি তাই দ্রুত আমি রাত দেড়টার দিকে গ্রিন লাইফে গিয়ে আমার নমুনা দেয়। পরদিন সকালে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।’
ডা. মাহফুজ বলেন, যেহেতু এক বাসায় থাকি তাই বাবা ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ (৮৫) ও মা প্রফেসর মাহফুজা খানমকে (৭৬) নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। বৃহস্পতিবার রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) আমরা পরিবারের ২০ সদস্যের নমুনা দেয়। পরদিন অর্থাত্ শুক্রবার সবার রিপোর্টই নেগেটিভ আসে। তিনি বলেন, প্রাভা যে ভুল রিপোর্ট দিল সেটায় দায় কে নেবে? আমাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হলো। পুরো তিনটা দিন পরিবারের লোকজন সে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা নিয়ে সময় পার করল তাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কে দায় নিত? প্রফেসর মাহফুজা খানমেরও একই অভিযোগ। তিনি বলেন, একজন বিদেশগামী শ্রমিককে এমন ভুল রিপোর্ট দিলে তার কত বড় ক্ষতি হয়ে যেত? অর্থদণ্ডের সঙ্গে তার চাকরিটাও তো যেতে পারত। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করানো কতটা যুক্তিসঙ্গত সেটা ভেবে দেখা দরকার।
ডা. মাহফুজ বলেন, আমরা তো মনে করি, ব্যাবসায়িক কারণে তারা ইচ্ছে করে ভুল রিপোর্ট দিয়েছে। কারণ, তিন জনের রিপোর্টই একসঙ্গে ভুল হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী যেখানে কোভিডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেখানে তারা ব্যবসা করার জন্য এটা করেছে বলে মনে হয় না। তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাভার অভিযোগ গ্রহণ শাখার কর্মকর্তা হাজেরা আক্তার লিমা ইত্তেফাককে বলেন, ‘কোথাও তো শতভাগ সঠিক রিপোর্ট দেওয়া হয় না। ভুল হতে পারে। আর যাদের পজিটিভ রিপোর্ট আসে তাদের আমরা সহযোগিতার জন্যই নানা ধরনের অফার করি। জনাব শফিক আহমেদের পরিবারের সদস্যদের রিপোর্টগুলো আবার পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।’
