উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় অববাহিকার জেলাসমূহের চরাঞ্চলের মানুষজন পানিবন্দি হওয়ার এক দিন পরই কমতে শুরু করেছে পানি। এতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট সংবাদদাতা জানান, গতকাল শনিবার সকালে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বন্যাকবলিত আরাজিছালাপাক, চৌরাহা, কুটিরপাড় ও দক্ষিণ বালপাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ি থেকে পানি বের হলেও পলি পড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে বাসিন্দাদের। চৌরাহা এলাকায় আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার জিও ব্যাগে বালু ভরাট করে নদীতে ফেলতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে গ্রামটির অধিকাংশ বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত গ্রামটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
রংপুর স্টাফ রিপোর্টার জানান, জেলার পীরগাছা উপজেলায় তিস্তার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে চর দক্ষিণ গাবুরা গ্রামটি। সেখানকার একমাত্র প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চর দক্ষিণ গাবুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রয়েছে হুমকিতে। নদীগর্ভ থেকে স্কুলটি এখন মাত্র ১৫ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে আছে। ভাঙতে ভাঙতে বিলীন হয়েছে এ গ্রামের বেশিরভাগ বসতবাড়ি। তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে অসময়ের পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টি টিকবে কি না, এ নিয়ে শঙ্কায় আছেন স্থানীয়রা। চোখের সামনেই ঘনবসতিপূর্ণ কোলাহলমুখর গ্রামটি বিলীন হচ্ছে। আর মাত্র চারটি পরিবারের বসতভিটা তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হলে মাত্রচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে দক্ষিণ চর গাবুরা। গতকাল শনিবার দুপুরে দেখা যায়, তিস্তার করালগ্রাসী রূপ থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাদের সঙ্গে কোমর বেঁধে কাজে যোগ দিয়েছে বিদ্যালয়টির স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিশু শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনে নদীগর্ভে গ্রামের ৫০টি বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। তিস্তা নদীর গর্ভে ঘরবাড়ি হারানো খয়বার আলী, তালেব মিয়া ও আমজাদ হোসেন জানান, সময় মতো উদ্যোগ নিলে বিদ্যালয়ের আশপাশের বাড়িঘরও রক্ষা পেত। পানি উন্নয়ন বোর্ডেও দায়িত্বরত ব্যক্তিদের উদাসীনতার কারণে তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন জানান, বিদ্যালয়টি রক্ষায় জোর চেষ্টা চলছে। আরো জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জ্যেতি প্রকাশ ঘোষ বলেন, ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগের মাধ্যমে মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, প্রমত্তা যমুনা জেলার চার উপজেলায় শতাধিক বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, হাট, তাঁত ফ্যাক্টরি, স’মিল ও ফসলি জমি বিলীন করে ফেলেছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরিভাবে ফেলা জিওব্যাগও যমুনার করাল থাবা থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। যমুনার প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিতে এক রাতেই শতাধিক স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে।
