বৃষ্টিতে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়া পাড়া গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একটি কোম্পানির অপরিকল্পিত বালু ভরাটের কারণে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়া পাড়া গ্রামের পাশে ‘মার্স ফিড’ নামে পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর পর থেকে এলাকার মানুষ বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেই বসবাস করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এ কোম্পানির পশুখাদ্য তৈরির কাঁচামালের দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। এছাড়াও এ কোম্পানি অপরিকল্পিতভাবে বালু ভরাট করার ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। গত কয়েক দিনে বৃষ্টির কারণে পানি জমে রাস্তা ও বাড়িঘর তলিয়ে গিয়ে এলাকার প্রায় দুই শতাধিক মানুষের ঘরে পানি ঢুকে যায়। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়ে তারা। এতে তাদের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সাতভাইয়া পাড়া গ্রামের এক গৃহবধূ জানান, কোম্পানির বালু ভরাট করায় এ অঞ্চলের বৃষ্টির পানি নদীতে নামতে না পারায় তা জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং পানি ঘরে ঢুকে পড়েছে। ফলে তাদের ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় মালপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। তার মতে, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখে বালু ভরাট করলে এ সমস্যার সৃষ্টি হতো না।
বৈদ্যেরবাজার গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, এ কোম্পানি হওয়ার আগে জলাবদ্ধতার কোনো সমস্যা ছিল না। বৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি মেঘনা নদীতে নেমে যেত। বর্তমানে বালু ভরাট করায় এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তাদের বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। মার্স ফিডের জেনারেল ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম জানান, ‘আমাদের জায়গা ভরাট করলে যদি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে তাতে আমাদের কিছুর করার নেই।’
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আতিকুল ইসলাম জানান, ‘আমি ঐ এলাকা পরিদর্শন করেছি। মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। একটি কোম্পানির অপরিকল্পিত বালু ভরাটের কারণে এমন সমস্যা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তবে ঐ কোম্পানিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
