মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
ঘিওরে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়েরের প্রায় পক্ষকাল পেরিয়ে গেলেও আসামি গ্রেফতার হয়নি। এদিকে আসামির মামা নুরুজ্জামান সোহাগ প্রভাবশালী হওয়ায় স্কুলছাত্রীর পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ধর্ষণ মামলার আসামি মো. হূদয় উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের শোলধারা গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহারে ঐ ছাত্রীর মা উল্লেখ করেন, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত হূদয় বালিয়াখোড়ায় তার নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। এরই সূত্র ধরে তার সঙ্গে ঐ ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুযোগে এক বছর যাবত্ ঐ স্কুলছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়।
গত ২৫ জুন সকালে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বালিয়াখোড়া গ্রামের একটি বাড়িতে দেখা করার জন্য নিয়ে যায়। তখন বিয়ের প্রলোভনে ফাঁকা বাড়িতে পেয়ে ঐ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হূদয়। পরদিন অন্য স্থানে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় পায় এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে পৌঁছে একপর্যায়ে হূদয়ের মামা নুরুজ্জামান সোহাগ তাদের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হূদয়কে নিয়ে চলে যান। পরে ঐ দিনই সোহাগ অভিযুক্ত ভাগনে হূদয়কে অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। গত ২৮ জুন দুপুরে ঘিওর থানায় অভিযোগ মামলা দায়ের করেন স্কুলছাত্রীর মা। মামলার তদন্তের সময় সরেজমিন পরিদর্শন, সাক্ষীদের বক্তব্য, জবানবন্দি এবং ঐ ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। বালিয়াখোড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. আলম বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। তার বাবা-মা আমার কাছে হুমকির কথা বলেছেন।’
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. সেলিম বলেন, ‘মামলাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাদীকে হুমকির বিষয়ে আমি অবগত নই।’ ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
