নাগেশ্বরীতে মাটির নিচ থেকে পাথরের তৈরি একটি প্রাচীন গো-মূর্তি উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। পরে সেটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে প্রতিবেশী শ্রীধর (৪০) তার প্রয়োজনে সেখানে ইটের টুকরা সংগ্রহ করার সময় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে পাথরের তৈরি প্রাচীন একটি গো-মূর্তি।
নাগেশ্বরী থানার এস.আই আনোয়ার হোসেন জানান, নেওয়াশী গোসাইয়ের ভিটা গ্রামে গত শুক্রবার একটি প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসস্তূপ থেকে ইটের টুকরা সংগ্রহের সময় স্থানীয় শ্রীধর নামের এক ব্যক্তি মাটি খুড়ে পাথরের তৈরি গো-মূর্তিটি উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে শনিবার তা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ধারনা করা হচ্ছে এর ওজন প্রায় ২০ কিলোগ্রাম হবে।

উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের গোঁসাইয়ের ভিটা গ্রামের বাসিন্দা নেওয়াশী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্থানীয় ব্রজনাথ রায় জানান, তারা জন্মের পর তাদের জমিতে ইট, চুন, সুরকির গাঁথুনির একটি প্রাচীন মন্দির দেখতে পান।
পূর্ব পুরুষের কাছে তিনি শুনেছেন, মন্দিরটি প্রায় তিন থেকে চারশ বছরের পুরানো। সেখানে একজন গোঁসাই বসে পূজা অর্চনা করতেন। তার মৃত্যুর পরে ওই মন্দিরে পূজা অর্চনা বন্ধ হয়ে যায়। সেই গোসাইকে তারাও দেখেননি। তার অবর্তমানে মন্দিরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। ধীরে ধীরে একে ঘিরে বেড়ে ওঠে গাছ-পালা। ডাল-পালা মেলে তা বড় আকার ধারণ করে।
গত কয়েকদিন আগের টানা বৃষ্টিতে গাছের ভারে মন্দিরটি ভেঙ্গে পড়ে। চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এরপর থেকে জনে জনে স্থানীয়রা কর্দমাক্ত মেঠোপথ চলাচল অনুপযোগী করতে সেখানে ফেলতে, টিউবওয়েলের পাড়ে দিতে ও বিভিন্ন প্রয়োজনে মন্দিরের ধ্বংসস্তূপ থেকে ইটের ভাঙ্গা টুকরা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে থাকে। শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে প্রতিবেশী শ্রীধর (৪০) তার প্রয়োজনে সেখানে ইটের টুকরা সংগ্রহ করার সময় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে পাথরের তৈরি প্রাচীন একটি গো-মূর্তি।

শ্রীধর জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে কোদাল দিয়ে ইটের টুকরা সংগ্রহের সময় নীচে লালচে-সাদা রংয়ের একটি পাথরের মত দেখতে পাই। পরে মাটি খুড়ে আমি বিস্মিত হয়ে পড়ি। দেখতে পাই এটি একটি পাথরের তৈরি প্রাচীন গো-মূর্তি। পরে সেটি নিয়ে বাসায় ফিরি। পথে কয়েকজনের দেখা হলে তাদেরকেও দেখাই। এরপর সেটি দেখতে আমার বাড়ীতে ভীর জমে। তিনি বলেন আমি স্বপ্নেও ভাবিনি এটি এত মূল্যবান। এটি জানাজানি হলে শনিবার দুপুরে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ এলে আমি তাদের হাতে তুলে দেই।
খবর পেয়ে বিকেলে নাগেশ্বরী থানায় আসেন কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা, কুড়িগ্রাম পৌর মেয়র কাজিউল ইসলাম ও কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাড. আহসান হাবিব নীলু। পরে সন্ধ্যায় তা কুড়িগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
