কর্মসূচি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টে হযবরল অবস্থা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২৬

বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট অনিয়মের অভিযোগ এনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও তাদের কর্মসূচি নিয়ে চলছে এলোমেলো অবস্থা। একটির পর একটি কর্মসূচি দিয়ে বাতিল করছে, স্থগিত করছে অথবা পিছিয়ে দিচ্ছে। নির্বাচনের পরপরই তারা ঘোষণা করেছিল ভোটে অনিয়ম নিয়ে তারা আদালতে মামলা করবে। এই মামলা করার জন্য ৩০০ আসনের প্রার্থীদের কাছ থেকে অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত-প্রামাণ্য সংগ্রহ করে বিএনপি। এরপর ঐক্যফ্রন্ট সিদ্ধান্ত নেয় তাদের প্রার্থীরা মামলা করবে না। ইতিমধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। তারা ঘোষণা দিয়েছিল, ২৮ জানুয়ারি সংলাপ করবে। পরে তা বাতিল করে আগামীকাল ৬  ফেব্রুয়ারি সংলাপ করার ঘোষণা দেন ড.কামাল হোসেন। এই সংলাপে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে  বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষজনকে চিঠি দেয়া শুরু করেছিল। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সংলাপে ৩০ ডিসেম্বর ‘ভোট ডাকাতির’ নির্বাচনের তথ্য  উপাত্ত উপস্থাপন করা হবে। এবং সবার সুচিন্তিত মতামতের উপর ভিত্তি করে আগামী দিনের কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার মতিঝিলের ড.কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সংলাপ বাতিল। তার বদলে একই দিনে ‘কালো ব্যাজ’ পরে প্রতিবাদ জানানো হবে। ৬  ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ করে মানববন্ধন হবে। আর ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রার্থী ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে হবে গণশুনানি।

এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে ৮ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা করার ঘোষণা দেয়া হয়। তবে গতকাল সোমবার বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে জানায়, জনসভার কর্মসূচি স্থগিত। তার পরিবর্তে একই দিনে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকা হয়েছে। এ ছাড়া ৯ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের এক বছর পূর্ণ হবে।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, বইমেলার কারণে সোহরাওয়ার্দীতে জনসভার কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে সংলাপ কেন বাতিল হলো এ প্রসঙ্গে ডা.জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা ভেন্যু পাচ্ছি না। সরকার বাধা দিচ্ছে। গত ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে নাগরিক সংলাপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমরা। তবে পুলিশ আমাদের অনুমতি দেয়নি। প্রেসক্লাবেও সংলাপ করতে চেয়েছিলাম। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট ও প্রেসক্লাব মিলনায়তন বুকিং দেয়া হয়। ডিপ্লোমা কর্তৃপক্ষ বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দলকে আমরা হল বুকিং দিচ্ছি না। সেক্ষেত্রে ডিএমপির অনুমতি লাগবে। ডিএমপি অনুমতি দেয়নি।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ঐক্যফ্রন্ট কার্যালয়ে দলের সমন্বয় কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেন, ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের সংসদে নিয়ে ক্ষমতাসীনরা আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাছে নির্বাচনের বৈধতা পেতে চায়। তবে আমরা এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি তাই শপথ নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।