চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
লকডাউন ও করোনাভীতি কাটিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাজারে বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে। এখন বাজারগুলোতে আম্রপালি ও ফজলি আমের সমারোহ দেখা গেছে। আর উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভালো দাম পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের শঙ্কাও কাটতে শুরু করেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন ব্যাপারী এবং ব্যবসায়ীরা। আবার কেউ কেউ অনলাইনের মাধ্যমে চাহিদা দিচ্ছেন। জেলা শহরের অস্থায়ী আমবাজার ডা. আ. আ. ম মেসবাহুল হক বাচ্চু ডাক্তার স্টেডিয়ামসংলগ্ন স্থানে ও দেশের সর্ববৃহত্ কানসাট আমবাজারে বিক্রেতাদের হাঁকডাকে চলছে বেচাকেনা। এরই মধ্যে দেশসেরা ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া, লক্ষ্মণভোগ, আম্রপালি, সুরমা ফজলি, ফজলি ও নানা জাতের গুটি আম এখন পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আম বেচাকেনা চললেও, গত তিন সপ্তাহ থেকে আম বেচাকেনা শুরু হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাজারগুলোতে। বর্তমানে লকডাউন ও করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলিতে জমে উঠেছে জেলার সব আমবাজার। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা, ন্যায্য দাম ও বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা আসার পাশাপাশি অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বর্তমানে প্রতি মণ ক্ষীরশাপাতি ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, লক্ষ্মণভোগ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, ল্যাংড়া ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ফজলি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, সুরমা ফজলি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হজার ৮০০ টাকা আর গুটি জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে। কানসাট আম আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.-এর সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে কানসাট আমবাজারেই বেচাকেনা হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার আম। একেক দিন হয়তো বিক্রি কম হলেও পরের দিন ভালো হচ্ছে। অন্যদিকে বাইরে থেকে আম কিনতে আসা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানকার আমের চাহিদা দেশব্যাপী।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে বাজারজাত ও দেশব্যাপী পরিবহনে উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে আমের ব্যবসা তুলনামূলক ভালো। প্রতিদিন চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে আম যাচ্ছে। জেলায় চলতি মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমির বাগান থেকে ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। যার বাজার মূল্য ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা।
