গাজীপুরে পাওনা টাকা না পেয়ে দুই জনকে হত্যা :পুলিশ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ২১:৩০

হোতাসহ দুই জন গ্রেফতার

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে পাওনা আড়াই হাজার টাকা না পেয়ে দুই সহকর্মীকে পানিতে ডুবিয়ে ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল হোতা রাসেলসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন গাইবান্ধার রাসেল প্রধান (২৫) ও বগুড়ার মো. সৈকত সরকার (২৪)। রবিবার দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান জিএমপি সদর দপ্তরে এক প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গত ৭ জুলাই গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি থানার বাঘিয়ার চরে জনৈক কালাম আজাদের পরিত্যক্ত ইটভাটার পাশে বিলের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয় দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ঐ থানার এসআই তাপস কুমার হত্যা মামলা করেন। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি সৈকত সরকারকে গত শনিবার কালিয়াকৈর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের হোতা রাসেল প্রধানকে শনিবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রাসেল প্রধান জানায়, সে নিজে এবং নিহত মাহমুদুল হাসান (২০) ও মোঃ রাকিব হোসেন (১৮) কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকায় বিস্কুট তৈরি কারখানায় চাকরি করত। মাহমুদুল হাসান এক মাস আগে তার কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ধার নেয়। ধারের টাকা চাইতে গেলে মাহমুদুল হাসান টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে মাহমুদুল হাসান তার মোবাইল নম্বরটি ব্লক করে রাখে। গত ১ জুলাই রাসেল প্রধান গাইবান্ধা থেকে কোনাবাড়ীতে এসে পাওনা টাকার জন্য মাহমুদুলকে দুই দিন ধরে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে রাসেল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে মাহমুদুলের অপর সহকর্মী মো. রাকিবকে দিয়ে মাহমুদুলের সন্ধান পায়। তারা তিন জন একত্র হয়ে গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার বাঘিয়ার চরে জনৈক কালাম আজাদের পরিত্যক্ত ইটভাটায় যায়। পরে ইটভাটার পাশে বিলের পানিতে তাদের দুজনকে কৌশলে ডুবিয়ে হত্যা করে রাসেল। পরে লাশের ওপর ঘাস ও লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রাখে। এসময় নিহত দুই জনের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও ২০০ টাকা নিয়ে রাসেল প্রথমে কালিয়াকৈর চন্দ্রা মোড়ে ভাতের হোটেলে যায়। সেখানে ঐ হোটেলের মালিকের ছেলে সৈকত সরকারের কাছে মাহমুদুলের মোবাইল ফোনটি ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করে গাইবান্ধা চলে যায়।