নির্মাতা সতীর্থ রহমান করোনার কারণে প্রায় ২ বছর ধরে নির্মাণ থেকে দূরে রয়েছেন। তবে করোনাকালীন মানুষকে নিরাপদ রাখার প্রত্যয়ে শুরু করেছেন অনলাইন ব্যবসা। ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
করোনার কারণে তো প্রায় ২ বছর নির্মাণ থেকে দূরে আছি। কিছু নাটক ও একটি সিনেমার কাজ শুরু কথা ছিল, কিন্তু রিস্ক নিয়ে কাজ করতে চাইনি। তবে ঘরে বসে অনলাইনে একটি পোশাক বিক্রির ব্যবসা চালু করেছি।
হটাত্ ব্যবসার দিকে মনোযোগী হওয়ার কারণ কী?
মহামারির এ সময়ে তো কাজ তেমন না করতে পারায় অনেকেই হতাশ। তাছাড়া মানুষ যাতে বাইরে বের না হয়ে ঘরে বসে পোশাক কিনতে পারে সেই লক্ষ্যেই ব্যবসাটি চালু করলাম। এতে আমি বোরিং ফিল হওয়া থেকে মুক্তি পাচ্ছি, পাশাপাশি কিছু মানুষকে হলেও নিরাপদ রাখতে পারছি।
সংখ্যা বাড়লেও নাটকের মান এবং জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার জন্য কাকে দায়ী করবেন?
এর একমাত্র কারণ আমাদের দর্শক পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন মাধ্যম বাড়ায় দর্শকরা চাইলেই পরিবারের সঙ্গে না দেখে নিজের মতো করে নানা অপশনে নাটক বা প্রোগাম দেখতে পারছেন। তাদের রুচির পরিবর্তন নির্মাণে প্রভাব ফেলছে।
নাটকে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারকে কীভাবে দেখছেন?
আসলে ভিউ বাড়ানোর জন্য এই কাজটি করা হচ্ছে। দর্শকরা এই ভাষা শুনে মজা পাচ্ছেন। এতে ভিউ বাড়ছে। নির্মাতারাও ব্যবসার স্বার্থে সেই পথে হাঁটছেন। এতে ভাষাও কিন্তু বিকৃত হচ্ছে। ভিউ বাণিজ্য নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
এখন কাজ কেমন হচ্ছে সেটা মুখ্য না। কার ভিউ কত সেটা বিচার্য। এতদিন কাজ করার পর আমাকেও শুনতে হয় আপনার কোন নাটকের ভিউ বেশি!
স্ক্রিপ্ট ছাড়া নির্মাণে মান বজায় রাখা কী আদৌ সম্ভব হচ্ছে?
এটা অসম্ভব। আমি এই বিষয়টি ভাবতেই পারি না। হটাত্ করেই কিন্তু শট দিতে গিয়ে ভালো একটি ডায়ালগ বলা সম্ভব না। স্ক্রিপ্ট থাকলে গল্পের পাশাপাশি নিজের চরিত্রের ভেতর ঢোকা যায়। এতে কাজের মান আরো ভালো হয়।
ওটিটি মাধ্যমটি কতটা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন? অনেকেই তো নেতিবাচক শিরোনামে আসছেন!
এই মাধ্যমটিতে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে। যে গল্পগুলো আমরা টিভির কাজে বলতে পারতাম না, সেগুলো এখানে বলতে পারছি। আর অশ্লীলতা নিয়ে সমালোচনা চলছে সেটাকে আমি দর্শক চাহিদা হিসেবেই দেখছি। এটা যার যার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে।
