জয়ের ছন্দে মাহমুদউল্লাহর বিদায়

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ২২:১৬

হারারে টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে মাঠে নামার আগে দুপাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। মুহূর্তেই হাজির হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সতীর্থদের করতালিতেই সবার আগে মাঠে প্রবেশ করেন তিনি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেননি। তবে মুমিনুল-সাকিবদের ‘গার্ড অব অনার’ই বলে দিচ্ছে পুরো গল্প। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গতকালই ছিল টেস্ট ক্রিকেটে মাহমুদউল্লাহর শেষ দিন।

ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে সেঞ্চুরি করেছিলেন। প্রায় দেড় বছর পর ফিরেই পঞ্চম সেঞ্চুরির রোমাঞ্চ নিয়েই পরদিন সতীর্থদের জানিয়ে দিয়েছেন, এখানেই ইতি টানতে চান টেস্ট ক্যারিয়ারের। হারারে টেস্টই শেষ ম্যাচ। তারপর আর টেস্ট খেলবেন না। সাজঘরের আলাপন গোপন থাকেনি। গুঞ্জন হয়ে ভেসে বেড়িয়েছে গত কয়েক দিন। গতকাল সকালের ছবিটা স্পষ্ট করে দিল যে, বিদায়ী ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। পরে খেলা শুরু হতেই টিভি ধারাভাষ্যকাররাও নিশ্চিত করেছেন, জিম্বাবুয়ের মাটিতেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ৩৫ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার।

মাথা উঁচু করেই বিদায় নিলেন মাহমুদউল্লাহ। তার বিদায়ি ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জিতেছে ২২০ রানে। বাংলাদেশের ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ৫০তম টেস্ট খেলেছেন। ব্যাট হাতে ম্যাচটা রাঙিয়েছেন তিনি। দলের বিপদে ৮ নম্বরে নেমে করেছেন সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ার-সেরা অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংস খেলেছেন। ১৭ মাস ব্রাত্য হয়ে থাকা টেস্ট দলে ফিরে এমন পারফরম্যান্সের পর মন বদলে যায় তার। মধুর স্মৃতি নিয়ে লাল বলের ক্রিকেট ছাড়লেন মাহমুদউল্লাহ। বিসিবি অবশ্য ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু নিজের মনের সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন তিনি।

গত বছর রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাজে ব্যাটিংয়ের পর টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন মাহমুদউল্লাহ। টি-২০ অধিনায়ককে বলে দেওয়া হয় শুধু সাদা বলের ক্রিকেটে মনোযোগী হতে। এবার জিম্বাবুয়ে সফরেও শুরুতে টেস্ট দলে ছিলেন না। শেষ মুহূর্তে তামিম-মুশফিকের ইনজুরির কারণে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয় মাহমুদউল্লাহকে। সুযোগটা পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগিয়েছেন তিনি।

এক যুগের টেস্ট ক্যারিয়ার, ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অভিষেক হয়েছিল মাহমুদউল্লাহর। অলরাউন্ডার থেকে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেছেন দলের। তবে ধারাবাহিকতার অভাব সব সময়ই প্রকট ছিল। ৫০ টেস্টে ৩৩.৪৯ গড়ে ২ হাজার ৯১৪ রান করেছেন, বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ৪৩টি।

টেস্টে একবারই ম্যাচ-সেরার পুরস্কার পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। সেটাও গতকাল বিদায়ি ম্যাচে। গতকাল ম্যাচ শেষেও অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সাদা পোশাকে তাকে আর দেখা যাবে না, এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।