ইত্তেফাক রিপোর্ট
হাইকোর্ট বলেছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কারখানায় আগুনে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের আগে কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আমরা নির্দেশনা দেব? এখন পর্যন্ত এক জনের লাশ শনাক্ত হয়েছে। অন্যগুলো ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত হতে সময় লাগবে। সে জন্য মরদেহ শনাক্তের আগে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া ঠিক হবে না। হাশেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে গতকাল রবিবার এ মন্তব্য করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। এ ছাড়া আহত শ্রমিকদের চিকিত্সাসেবা নিশ্চিতে শ্রমসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলকে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘মরদেহগুলোর পরিচয় যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত না হয়, আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর না করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনারা (রিটকারী) অপেক্ষা করুন।’ তিনি বলেন, গত বছর ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে রুল জারি না করে একটি অন্তবর্তীকালীন আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। পরে এ নিয়ে আপিল বিভাগে প্রশ্ন ওঠে। রুল জারি ছাড়াই টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ আইনসংগত কি না। আপিল বিভাগে বিষয়টি নিষ্পত্তি শেষে ঐ ঘটনায় রুল জারির ক্ষতিপূরণর বিষয়ে রায় দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডসের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিবারপ্রতি ১ কোটি এবং আহতদের জন্য ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি।
রিটের শুনানিতে ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘সরকার এখন যে টাকা দিচ্ছে, সেটা অনুদানের মতো। এটাকে ক্ষতিপূরণ বলতে চাইছি না। ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে হাইকোর্ট যথাযথ আদেশ দিতে পারে।’ আদালত বলেছে, ‘মর্মান্তিক এ ঘটনায় ফৌজদারি মামলা হয়েছে। ঐ মামলায় মালিকপক্ষকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এখন তদন্ত হবে। পত্রিকায় দেখলাম নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আহতদেরও কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।’
আইনজীবীরা বলেন, চিকিত্সার খরচ যেন কোম্পানি বহন করে, এ রকম একটা নির্দেশনা দেন। তাদের অবহেলাতেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আদালত বলেছে, ‘কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সবাই তো এখন জেলখানায়। আর কোম্পানি বিজ্ঞাপন দিয়ে বলেছে তারা খরচ দেবে। না দিলে তখন আসবেন, বিষয়টা আমরা দেখব।’
আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী জেড আই খান পান্না, অনিক আর হক এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
