চট্টগ্রামে তৃণমূলে বেহাল সরকারি স্বাস্থ্যসেবা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ২২:১৮

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালের বিপুলসংখ্যক চিকিত্সক দীর্ঘদিন যাবত্ নগরীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সংযুক্তি নিয়ে চাকরি করছেন। ফলে গ্রামের এসব হাসপাতালে জটিল রোগীরা চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেই ৬৯ জন চিকিত্সক সংযুক্তিতে আছেন। তারা উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে তদবির করে শহরের হাসপাতালে এসেছেন। এসব চিকিত্সকের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন বিষয়ে কনসালটেন্ট ও মেডিক্যাল অফিসার। উপজেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে কনসালটেন্ট চিকিত্সকের অধিকাংশ পদ শূন্য।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, এই হাসপাতালে বর্তমানে ১১৪ জন চিকিত্সক কর্মরত আছেন। অথচ চিকিত্সকের সৃষ্ট পদ রয়েছে প্রায় ৪৫টি। বাকি চিকিত্সকেরা সংযুক্তিতে চাকরি করছেন। এ ছাড়া চমেক হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিপুল চিকিত্সক সংযুক্তিতে আছেন। অন্যদিকে উপজেলা সদর হাসপাতালগুলোতে কনসালটেন্ট চিকিত্সকের বিপুলসংখ্যক পদ খালি পড়ে রয়েছে।

চট্টগ্রামে উপজেলার ৫০ শয্যার প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে কনসালটেন্টের পদ রয়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত্ হাসপাতালগুলোতে অধিকাংশ পদে চিকিত্সক নেই। চিকিত্সা উপকরণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিকিত্সক না থাকায় গ্রামের        জটিল রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিত্সা পাচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে কনসালটেন্ট চিকিত্সকদের পদায়ন করেও রাখা যাচ্ছে না। পদায়নের পর তদবির করে সুবিধাজনক স্থানে বদলি অথবা সংযুক্তি নিয়ে চলে যাচ্ছে।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিনের কনসালটেন্টের পদ ছাড়া বাকি সব খালি। গাইনি কনসালটেন্টের পদটি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত্ শূন্য থাকায় জটিল প্রসূতিরা চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ সিজারিয়ান করার যাবতীয় চিকিত্সা উপকরণ রয়েছে। উপজেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শফিউর রহমান মজুমদার বলেন, ‘মেডিক্যাল অফিসার থাকলেও কনসালটেন্ট চিকিত্সকের অধিকাংশ পদই খালি। চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির জনবলের সংকটের কারণে সমস্যা জটিল হয়ে পড়েছে।’ মিরসরাই উপজেলা হাসপাতালে চার জন কনসালটেন্ট কর্মরত আছেন। বাকিগুলো খালি। গাইনি কনসালটেন্টও নেই। উপজেলা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই হাসপাতালের কনসালটেন্টসহ আট জন চিকিত্সক বিভিন্ন হাসপাতালে সংযুক্তি নিয়ে চাকরি করছেন। অন্যান্য পদেও জনবলের সংকট প্রকট। কনসালটেন্ট না থাকায় জটিল প্রসূতির সিজারিয়ান করা যাচ্ছে না।’

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কনসালটেন্ট চিকিত্সক নিয়ে একই অবস্থা বিরাজ করছে। ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে চার জন কনসালটেন্ট কর্মরত আছেন। অন্যান্য পদে জনবলের সংকট রয়েছে। উপজেলা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নাবিল বলেন, ‘এই হাসপাতালের প্রায় ১২ জন চিকিত্সক সুবিধাজনক স্থানে সংযুক্তি নিয়ে চাকরি করছেন। এদের মধ্যে কয়েক জন কনসালটেন্টও রয়েছেন। চমেক হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেও অনেকেই সংযুক্তিতে আছেন।’

বোয়ালখালী উপজেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমার এখানে ১০ জন কনসালটেন্টের মধ্যে পাঁচ জন কর্মরত আছেন। পাঁচ জন চিকিত্সক বিভিন্ন হাসপাতালে সংযুক্তিতে রয়েছেন। সুইপার, দারোয়ান, পিয়ন পদে জনবল নেই। টেকনিশিয়ান পদেও জনবলের সংকট রয়েছে।’

পটিয়া উপজেলা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ বলেন, ‘আমার হাসপাতালের পাঁচ জন চিকিত্সক সংযুক্তিতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন জন চমেক হাসপাতালে, এক জন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এবং এক জন বিমানবন্দর হাসপাতালে সংযুক্তিতে আছেন। এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান নেই। চন্দনাইশ উপজেলা হাসপাতাল থেকে এক জন টেকনিশিয়ান সপ্তাহে দুই দিন এসে সার্ভিস দেন।’