আত্মীয়ের নাম ভাঙিয়ে দুর্বল ব্যাংকটিও আছে বেশ, নিয়মনীতির তোয়াক্কা নেই

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ২২:২৫

ব্যাংকিং খাতে দুর্বল ভিত্তির কোনো কোনো ব্যাংকও বেশ ভালো আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনেক গাইডলাইনকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতোই গ্রাহকদের কাঁধে চেপে অর্থ আদায় করছে। সুদের ওপর সুদ, দণ্ডসুদ আদায়তো করছেই, বরং ঋণ নেওয়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পরিশোধ করার পরও আসল টাকা কমছে না। সেই টাকা আদায়ের জন্য মামলা-গ্রেফতার করে গ্রাহকদের হুমকি, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, ঋণ অবলোপন করা হয়েছে এমন হিসাবেও দণ্ডসুদ যোগ করে গ্রাহকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কাই করছে না। কারণ, বেসরকারি খাতের এ ধরনের ব্যাংকের উদ্যোক্তা আবার প্রভাবশালীদের আত্মীয়। ক্ষমতাধর আত্মীয় কিংবা ‘বেয়াই’ আছে-তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও এ ধরনের ব্যাংকে সঠিক তদারকি করছে না। ফলে, নানা অনিয়মের পরও ক্ষমতাধর ‘বেয়াই’র দাপটের কারণে দুর্বল ভিত্তির ব্যাংকের উদ্যোক্তা-পরিচালক, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করার ম্যাজিক ‘বেয়াই’তো আছেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ব্যাংকিং খাতকে সুশৃঙ্খল করার জন্য সরকারের নানা চেষ্টা থাকলেও তা করা যাচ্ছে না কতিপয় প্রভাবশালীর কারণে। এদের কেউ কেউ ক্ষমতাধর হিসেবে নিজেদের জাহির করেন। কেউ আবার অর্থ—বাণিজ্য খাতের চিহ্নিত প্রভাবশালী। এ ধরনের প্রভাবশালীরা যদি বেয়াই হয় তো, সবকিছুই জায়েজ হয়ে যায়। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পথে যা অন্যতম প্রতিবন্ধক।

আর বেয়াই থাকার সুবাদে সম্প্রতি দুর্বল আর্থিক ভিত্তির ব্যাংকটিও নানাভাবে নিজেকে টিকিয়ে রাখছে। ব্যাংকটি শিল্পের অর্থায়নে মনোযোগী না হয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগসীমার ঊর্ধ্বে বিনিয়োগ করে দ্রুত মুনাফা আয়ের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি সুদ আদায়সহ নানা লুক্কায়িত চার্জ আদায় করে যাচ্ছে। গ্রাহকের হিসাবে ঋণ দেখিয়ে উদ্যোক্তা-পরিচালকরা টাকা নিয়ে যাচ্ছে বলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে। উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি করা হচ্ছে। এই সূত্র মতে, ব্যাংকটি নিবিড় পরিদর্শনের আওতায় আনা গেলে অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসবে। তদুপরি, এই ব্যাংকে উদ্যোক্তারা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপরও খবরদারি করে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পছন্দের লোকদেরই প্রাধান্য দিয়ে থাকে, যিনি তাদের চাহিদা মেটাতে সম্মত হবেন। যে কারণে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের যারা ঐ ব্যাংকের ঋণগ্রহিতা, তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিত ব্যাংক—গ্রাহক সম্পর্কের সুফলও পাচ্ছেন না। অথচ প্রকৃত উদ্যোক্তারা করোনাকালীন এই সংকট ছাড়াও বিদ্যুত্, জ্বালানির সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এধরনের সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে রাখতে হবে। নইলে এ অবস্থা সার্বিক অর্থনীতির জন্যও মঙ্গল বয়ে আনবে না।