ঠাকুরগাঁওয়ে মিলি চক্রবর্তীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনপূর্বক জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেফতারসহ শাস্তি নিশ্চিতকরণের দাবি করে সংগঠনটি। গতকাল রবিবার সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারি, ঠাকুরগাঁওয়ে শহরের কালীবাড়ি (তাঁতিপাড়া) এলাকায় শহিদ মোহাম্মদ আলী সড়কসংলগ্ন নিজ বাড়ির পাশের গলি থেকে মিলি চক্রবর্তী (৪৫) নামে এক নারীর বিবস্ত্র অবস্থায় অর্ধদগ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ৭ জুলাই শহরের কালীবাড়ি এলাকার সোনা চক্রবর্তীর স্ত্রী ভোরে পূজা শেষে হাঁটতে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুনে পোড়া ঐ নারীর মরদেহ দেখে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মহিলা পরিষদ নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ ও মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিস্মিত, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। প্রতিনিয়ত নারীরা যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাসহ নৃশংস নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ফলে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং নারী-শিশুর স্বাধীন জীবন ও চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আশু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার, প্রশাসনের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জোর দাবি জানাচ্ছে মহিলা পরিষদ। সেই সঙ্গে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সারা দেশে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে।
