মহামারিতে পরিবেশবান্ধব উত্সব পেল কান

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ০০:৩৬

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উত্সব বাতিল করা হয়। ৫২ বছর পর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখেছে দক্ষিণ ফরাসি উপকূলীয় শহরটি। উত্সবের প্রত্যাবর্তনে তাই পরিবেশবান্ধব নানান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এজন্য পরামর্শক সংস্থা গ্রিন এভেনম্যঁর সঙ্গে বেশ কয়েক মাসের প্রস্তুতি নিয়েছে কান কর্তৃপক্ষ।

প্রতিদিন বিভিন্ন হোটেল থেকে তারকাদের চকচকে গাড়িতে করে লাল গালিচা পর্যন্ত আনা-নেওয়া করা হয়। এসব অফিশিয়াল গাড়ির ৬০ শতাংশ বহর এবার বিদ্যুচ্চালিত।

বৃক্ষনিধন হ্রাসে ছাপা কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনা হয়েছে ৫০ শতাংশে। সাংবাদিকসহ ব্যাজধারীদের জন্য পুরো উত্সবের সময়সূচি রয়েছে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে। অফিশিয়াল সিলেকশনে স্থান পাওয়া ছবিগুলোর বিবরণ অন্যান্যবার বিনা মূল্যে দেওয়া হলেও এবার অপচয় কমাতে নির্দিষ্ট দামে বিক্রি হচ্ছে।

২০১৯ সালে ২২ হাজারের বেশি প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করা হয়েছিল কান উত্সবে। কিন্তু এবার কোনো প্লাস্টিকের ব্যবহার নেই। এমনকি সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দ দোতলার প্রেস রুম এবং চারতলায় ছাদবারান্দায়ও খুঁজে পাওয়া যায় না প্লাস্টিক। এখানকার খাওয়ার পানির পাত্র ও জুস পানের স্ট্র তৈরি হয়েছে কাগজ দিয়ে। উত্সবের রোমাঞ্চ জাগানিয়া স্থান পালে দে ফেস্টিভ্যালে লাল গালিচার দৈর্ঘ্য নামিয়ে আনা হয়েছে অর্ধেকে। সেগুলোও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বস্তু দিয়ে বানানো। এ ছাড়া ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল প্রান্তে কার্পেট ব্যবহার কমানো হয়েছে ২৪ শতাংশ।

কান শহরে খাবার পরিবেশনায় রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেতে মৌসুমি পণ্য ও নিরামিষভোজে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে উত্সব চলাকালে ২৫০ টন বর্জ্য পাওয়া গেছে। এবার ৯৫ শতাংশ বর্জ্য কমানোর ব্যাপারে আয়োজকেরা আশাবাদী।

পরিবেশের সুরক্ষার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কান উত্সব কর্তৃপক্ষ এবারের আসরে যুক্ত করেছে ‘সিনেমা ফর দ্য ক্লাইমেট’ শীর্ষক একটি বিভাগ। এতে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও ছয়টি প্রামাণ্যচিত্র রয়েছে। গতকাল উত্সবের ষষ্ঠ দিনে বেলা ৩টায় এগুলোর নির্মাতা ও কলাকুশলীরা সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন। পরিবেশবিষয়ক নতুন ছবিটি হলো লুই গ্যারেল পরিচালিত ও অভিনীত ‘দ্য ক্রুসেড’। আর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত চিত্র নিয়ে সাজানো প্রামাণ্যচিত্রগুলো হলো ফ্রান্সের আইসা মাইগা পরিচালিত ‘অ্যাবাভ ওয়াটার’, ভারতের নয়াদিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে রাহুল জৈনের ‘ইনভিজিবল ডেমনস’, ফ্রান্সের সিরিল দিওন ও মেলানি ল্যঁহোর ‘অ্যানিমেল’, চীনের জাও লিয়াংয়ের ‘আই অ্যাম সো সরি’, ইন্দোনেশিয়ার প্লাস্টিকদূষণ নিয়ে ফ্রান্সের ফ্লো ভাসা পরিচালিত ‘বিগার দ্যান আস’ এবং ফরাসি নারী নির্মাতা মারি অ্যামিগেটের ‘দ্য স্নো লেপার্ড’।

কানের ছবিবাজার মার্শে দ্যু ফিল্ম ব্যাজধারীসহ সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে আয়োজকেরা। উত্সব শুরুর আগে অংশগ্রহণকারী সবার কাছ থেকে পরিবেশের কল্যাণে ব্যয়ের জন্য ২০ ইউরো করে নেওয়া হয়েছে। সাগরপাড়ের পরিবেশের যেন ক্ষতিসাধন না হয়, সেদিকে সতর্ক সংশ্লিষ্টরা।

করোনা মহামারির প্রতিকূলতা কাটিয়ে কান উত্সব ফিরিয়ে আনা ছিল আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে গত ৬ জুলাই শুরু হওয়া উত্সবের ৭৪তম আসরের ছয় দিন পেরিয়ে মনে হচ্ছে কান কর্তৃপক্ষ সফল।