ইস, যদি ম্যারাডোনা থাকতেন!

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ০০:৪৮

স্পোর্টস রিপোর্টার

মাথায় হ্যাট, মুখে চুরুট, উদোম শরীর, বান্ধবীবেষ্টিত কাচ ঘেরা বক্সে উঠে দাঁড়িয়েছেন। জার্সি খুলে ঘুরাচ্ছেন। গতকাল মারাকানা স্টেডিয়ামে হয়তো এমন দৃশ্যেই ধরা দিতেন গত বছর ২৫ নভেম্বর মর্ত্যধাম ছেড়ে যাওয়া ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

লিওনেল মেসিরা কোপা আমেরিকার ট্রফি জিতেছেন, তাও ব্রাজিলকে হারিয়ে। ২৮ বছর পর ট্রফি জিতল আর্জেন্টিনা।

এমন দিনে তার চেয়ে বেশি খুশি হতো আর কে? স্বর্গোদ্যানে বসে নিশ্চয়ই উত্সব করছেন তিনি! জীবদ্দশায় স্বদেশকে ট্রফি জিততে না দেখতে পারার ম্যারাডোনার অতৃপ্ত আত্মা হয়তো মারাকানায়ও হাজির হয়েছিল।

পেশাদার ফুটবল ছাড়ার পর বৈশ্বিক, বহুজাতিক টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার খেলায় স্টেডিয়ামের নিয়মিত মুখ ছিলেন ম্যারাডোনা। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জুড়ে ব্রাজিলে ঘুরেছেন বিভিন্ন ভেন্যুতে। মেসিদের উত্সাহ দিয়ে গেছেন। মারাকানায় বসে দেখেছেন ফাইনালের হার। গতকাল সেই মাঠেই মেসিরা শিরোপা উত্সব করল। কিন্তু ম্যারাডোনা নেই। আর্জেন্টিনার জয়ে সবার মনেই উকি দিয়েছিলেন তিনি। হয়তো গতকাল বাঁধনহারা উল্লাসে মেতে উঠতেন তিনিও।

অন্ততলোকে পাড়ি জমানো ম্যারাডোনাই ছিলেন বিশ্বব্যাপী লাতিন আমেরিকার দেশটির ফুটবলের বড় বিজ্ঞাপন। নিজের ফুটবল জাদুতে মোহবিষ্ট করেছেন কোটি কোটি মানুষকে। ১৯৮৬ সালে দেশকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের দিনে অসীমে চলে যাওয়া ফুটবলের মহাতারকাকে স্মরণ করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। কোচ হিসেবেও আর্জেন্টিনাকে ট্রফি এনে দিতে চেষ্টা করেছেন ম্যারাডোনা। ২০১০ বিশ্বকাপে তার কোচিংয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছিল আর্জেন্টিনা। অবশেষে আলবেসেলেস্তেদের ট্রফির আক্ষেপ ঘুচে গেছে, কিংবদন্তি ম্যারাডোনা অবশ্য সময়টা দেখে যেতে পারলেন না।