শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে মধ্যরাতে হঠাৎ বিক্ষোভ-ভাঙচুর, পালালো ৩ বন্দি

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ০৩:০৮

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) বিক্ষোভের মধ্যেই পালিয়ে গেছে তিন বন্দি। শনিবার (১০ জুলাই) রাতে বিভিন্ন দাবিতে বন্দিদের বিক্ষোভ-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মধ্যরাত পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে এই বিক্ষোভ। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিক্ষোভ প্রশমিত করলেও এরই মধ্যে পালিয়ে যায় তিন বন্দি। 

রবিবার (১১ জুলাই) সকালে বিষয়টি ধরা পড়লেও জিডির পর দুপুরে জানাজানি হয়। এ ঘটনায় রবিবার যশোরের অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামানকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, বিভিন্ন দাবিতে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু করে বন্দিরা। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনার মধ্যে তিন বন্দি পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে এক জনের বাড়ি নাটোর জেলায়। বাকি দুই জনের ঠিকানা মনে নেই। তিনি আরো বলেন, ‘তিন বন্দি পালানোর ঘটনায় রবিবার সকালে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।’

জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেড়শ জনের ধারণক্ষমতার কেন্দ্রটিতে ২৫০ জন বন্দি রয়েছে। বেশ কিছু দাবিতে তাদের অসন্তোষ রয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বন্দিরা বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা কেন্দ্র ভাঙচুর করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে যান। আমি নিজেও গিয়েছিলাম। তাদের কথা শুনেছি। সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি। তিন ঘণ্টা পর বিক্ষুব্ধ বন্দিদের শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। সেখানে ভাঙচুর হলেও কেউ আহত হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, করোনাকালে কেন্দ্রের বন্দিদের বাইরে বের হতে দেওয়া হয় না। এজন্য তাদের ক্ষোভ আছে। খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ আছে। এছাড়া সুপেয় পানির সমস্যা আছে। এমন বেশ কয়েকটি দাবিতে বন্দিরা বিক্ষোভ করেছে। আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।

No description available.কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আরো জানান, বেশ কিছু দিন ধরে মাথাপিছু দৈনিক ৭২ টাকা করে খাদ্যের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার দাবি করছিল বন্দিরা। তাছাড়া কেন্দ্রেটিতে আলাদা আলাদা রুমে সিনিয়র ও জুনিয়রভেদে খাদ্য সরবরাহ ও সুযোগ-সুবিধার দাবি তুলেছিল। সেই দাবিতে শনিবার রাতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় কেন্দ্রের আনসার সদস্যরা বিক্ষোভ বন্ধে অভিযান চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যশোর জেলা পুলিশের শতাধিক সদস্য অভিযান চালান।

২০২০ সালের ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন বন্দি কিশোরকে হত্যা ও ১৫ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় দেশ জুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। একাধিক বার তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কেন্দ্রে বারবার এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইত্তেফাক/এসজেড