চাঁপাইনবাবগঞ্জের কামারশালায় নেই ব্যস্ততা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ২১:৪৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তবে ঈদকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কামারশালাগুলোতে নেই তেমন কোনো ব্যস্ততা। যেখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলতো তপ্ত লোহাকে পিটিয়ে দা, ছুরি, কোপতা তৈরির কাজ। সেখানে বর্তমানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে সরকারের কঠোর লকডাউনের মধ্যে ক্রেতা পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কামাররা।

জেলা শহরের কামারশালা ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো ব্যস্ততা নেই কামারদের, লকডাউনে কয়েকটি কামারশালা খোলা থাকলেও নেই তেমন কাজ। তবে স্বাভাবিক পরিবেশে এক মাস আগে থেকেই কামারশালায় হাতিয়ার বানানোর কাজ শুরু হতো। কামারশালার পাশ দিয়ে গেলেই শোনা যেত ঠুংঠাং আর লোহা গরম করা ভাতির শব্দ। কিন্তু এবারের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন, এর প্রধান কারণ করোনা। শহরের প্রাণকেন্দ্র সিসিডিবি মোড় ও অক্ট্রয়মোড়, মালোপাড়া কামারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কামারশালা রয়েছে।

সিসিডিবি  মোড়ের একটি কামারশালার মালিক সুনিল কর্মকার জানান, এ বছরও ব্যবসার সময়টাতে লকডাউন। ঈদ আসলেই তাদের কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, কিন্তু এবার তাদের সে পরিমাণ কাজ নেই। তিনি আরো বলেন, ঈদের এক মাস আগে থেকেই দা, ছুরি, বটি, চাপাতিসহ নানা হাতিয়ার তৈরি করা শুরু হতো। সেই সঙ্গে কামারশালার সামনে বিক্রি করার জন্য সাজানো থাকতো পশু কোরবানির বিভিন্ন সরঞ্জাম আর বিক্রি শুরু হতো এক সপ্তাহ আগে থেকেই। কিন্তু এ বছর তেমন ক্রেতাও নেই, তাই কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। লকডাউনের কারণে ক্রেতারা আসতে পারছেন না। ফলে কাজ অর্ধেকে নেমে এসেছে, এতে করে কোনোরকমে চলছে তার কামারশালা। তার সহযোগী মিজানুর রহমান জানালেন, কোরবানির আগের মাস থেকেই ব্যবসা চাঙ্গা হতো। কিন্তু এ বছর তাদের আশানুরূপ কাজ নেই। সামান্য পরিমাণে কাজ পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গেছে, তার আগে থেকেই হাতিয়ার তৈরি করতে সাহস পাওয়া যাচ্ছে না। ভাতি ব্যবহারে কয়লা মজুদ করে রাখতে হতো, এবার সেটি নেই। তিনি আরো বলেন, দা ও কোপতা বানাতে ৪০০, বড় ছুরি ৬০০ টাকা, ছিলা ছুরি ১৫০ টাকা এবং শান দেওয়ার মজুরি প্রকার ভেদে ৮০ ও ১২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে যে কয়দিন সময় আছে লকডাউন শিথিল হলে বেচাকেনা শুরু হতে পারে।

কামারশালায় আসা ক্রেতা আরিফুর রহমান জানান, কোরবানির আগে কামারশালায় ভিড় থাকে। লকডাউনের কারণে সে তুলনায় ভিড় না থাকায় লোহা কিনে নিয়ে চাহিদানুযায়ী চাপাতি ও দা বানিয়ে নিলেন তিনি।