স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী অফিস
কয়েক মাস থেকেই রাজশাহীতে বাড়ছে চালের দাম। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও চালের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। লকডাউনের সুযোগে দুই মাসের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে চালের দাম। বাড়তি চালের দাম নিয়ে হতাশ নিম্ন আয়ের মানুষেরা। তারা বলছেন, লকডাউনে তাদের কর্মহীন জীবন কাটাতে হচ্ছে। ফলে বাজারে চালের দাম সামান্য বাড়লেই সেটি অনেক বেশি মনে হচ্ছে। তবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, চালের দাম বাড়াতে তাদের হাত নেই। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বড় অটো মিলাররা।
রবিবার নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে জানা যায়, প্রত্যেক আইটেমের চালের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। খুচরা বিক্রেতারা জানান, অটো মিলাররা বস্তাপ্রতি ১৭০ টাকা দাম বাড়িয়েছে। ৫০ কেজি আঠাশ চালের দাম এখন ২৭০০ টাকা। দুই মাস আগেও ছিল ২৫০০ টাকা। ২৫ কেজি আঠাশ চালের দাম এখন ১৩০০ টাকা। খুচরা বাজারে নতুন আঠাশ চাল কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে এখন ৫২ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুরাতন চালের কেজি ৫৮ টাকা।
কাটারিভোগ চালের বস্তাপ্রতি দাম ২০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার টাকা। বাড়তি দাম জিরাশালেও। ৫০ কেজির জিরাশালের বস্তা ৩০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ২৭০০ টাকা। খুচরা বাজারে কেজিতে চার টাকা বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা। ৫০ কেজির মিনিকেটের বস্তা এখন ২৮০০ টাকা, আগে ছিল ২৫০০ টাকা। ২৫ কেজির মিনিকেটের বস্তা ১৫০০ টাকা, আগে ছিল ১৪০০ টাকা। খুচরায় কেজিতে দুই টাকা বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা। বাসমতির বস্তা ১০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩২০০ টাকা, আগে ছিল ২৯০০ টাকা। বাসমতির কেজি এখন ৬৮ টাকা। পাইজাম, নাজিরশাল ও স্বর্ণার দাম কেজিতে দুই টাকা বেড়ে পাইজাম ৬০ টাকা, নাজিরশাল ৬৬ টাকা ও স্বর্ণা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে নগরীর মেসার্স মক্কা রাইস এজেন্সির মালিক মাসুক আলম খান বলেন, বাজারে চালের মজুত প্রচুর। তার পরেও দাম বাড়ছে। বাজারে চালের দাম নির্ভর করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওপর। সরকার নিজেও বেশি দামে চাল কিনছে। সব জায়গায় এর প্রভাব পড়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকার এলসির সুবিধা বন্ধ করায় ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ। এছাড়া বড় মিলাররা একসঙ্গে অনেক চাল মজুত করছেন। চালের দাম বাড়ার এটাও কারণ।
রাজশাহী পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, ওপেন এলসি না থাকায় আমরা ব্যবসা করতে পারছি না। ফলে আমরা মিলারদের ওপর নির্ভর করছি। তারা যে দামে চাচ্ছে, সেই দামেই আমাদের কিনতে ও বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আপাতত চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। মাস দুয়েক পর বাজারে নতুন চাল উঠলে দাম কিছুটা কমতে পারে। নিম্ন আয়ের কর্মজীবী হিয়া খাতুন বলেন, তিনি নগরীর একটি পার্লারে কাজ করতেন। লকডাউনে পার্লার বন্ধ তো কাজও বন্ধ। এমতাবস্থায় দুই টাকা দাম বাড়লে সেটাই অনেক বেশি। সরকারের এদিকে নজর দেওয়া উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, সরকারি চাল ক্রয় কার্যক্রম চলছে, মিলাররাও ধান কিনছে। এছাড়া এলসি সুবিধা বন্ধ রয়েছে। এই তিন কারণে চালের দাম বাড়তে পারে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনির্বাণ ভদ্র বলেন, অফিস খুললে কাগজপত্র দেখে আমি এ বিষয়ে কথা বলতে পারব।
