কোরবানির গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ২১:৪৪

ইত্তেফাক ডেস্ক

কোরবানির গরু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। বিশেষ করে বড় জাতের গরু নিয়ে খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে কোরাবানিযোগ্য পর্যাপ্ত পশুও মজুত রয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে পশুর হাটগুলো বন্ধ থাকায় সাধারণ ক্রেতা ও পাইকাররা গ্রামে গ্রামে আসছেন কম। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর :

জয়পুরহাট :আসন্ন কোরবানির জন্য লালনপালন করা বড় জাতের গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জয়পুরহাটের খামারিরা। জেলায় এবার ১ লাখ পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হলেও কোরবানির জন্য উপযুক্ত পশু মজুত রয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৩৫টি। করোনা পরিস্থিতির কারণে পশুর হাটবাজারগুলো বন্ধ থাকায় গ্রামে ঘুরে ঘুরে সাধারণ ক্রেতা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পাইকাররা তাদের পছন্দমতো গরু-ছাগল কিনলেও সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাবেচার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও অধিকাংশ মানুষ অনলাইনে কেনাকাটায় অভ্যস্ত না হওয়ায় এতে খুব একটা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘জাকস ফাউন্ডেশন’ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ কর্মসূচির আওতায় এবার ৫৭ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি ঢাকাতে অনলাইনের মাধ্যমে ৩৩টি গরু ও ৫০টি ছাগল বিক্রির ব্যবস্থা করেছে বলে জানান সহকারী পরিচালক (প্রাণিসম্পদ বিভাগ) ওবাইদুল ইসলাম। করোনা পরিস্থিতির কারণে কোরবানির পশুর হাট বন্ধ থাকলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কিছু গরুর পাইকার স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় গ্রামে ঘুরে ঘুরে কোরবানির পশু কিনছেন বলে জানান জেলা খামার মালিক সমিতির সভাপতি শাদমান আলিফ মিম রায়হান জয়। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে পশুর হাট বন্ধ থাকলেও অনলাইন প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে কোরবানির পশু কেনাবেচার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অঞ্চলের পাইকাররা গ্রামে ঘুরে পছন্দমতো পশু কিনছেন বলে জানান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুর রহমান।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) :করোনার প্রভাবে ব্যাপারী ও ক্রেতা না পাওয়ায় কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা। গতকাল সোমবার উপজেলার কয়েক জন খামারির সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। ব্যাপারীদের মধ্যে আরমান আলী ও সোহাগ মিয়া জানান, প্রতি বছর কোরবানির ঈদ এলেই দেওহাটা ও তক্তারচালা পশুর হাটে কোরবানির পশু বিক্রি করতে আসেন। এ বছর করোনা ও টানা লকডাউনের কারণে উপজেলা প্রশাসন দেওহাটা পশুর হাটসহ সবকটি হাট বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে তারা গরু নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, করোনা ও দেশে চলমান লকডাউনের কারণে সরকারি নির্দেশনায় সারা দেশের মতো মির্জাপুরেও পশুর হাট বন্ধ রাখা হয়েছে। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে খামারি, ব্যাপারী ও সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে পশুর হাট চালু করা যায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) :মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চলমান লকডাউনের কারণে মাধবপুরে কোথাও বসেনি কোরবানির পশুর হাট । কোরবানির গরু বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন মাধবপুরের খামারিরা। সোমবার মাধবপুর উপজেলার বড় খামার আন্দিউড়া পিউর অ্যান্ড অর্গানিক ডেইরি ফার্ম পরিদর্শনে গিয়ে কথা হয় খামারের মালিক মোত্তাকিন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি জানান, এবারের ঈদে কোরবানির জন্য ৬০টি ষাঁড় পালন করা হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে কোথাও পশুর হাট না বসায় বিক্রি করতে পারছেন না ষাঁড়গুলো। পশু ব্যবসায়ী আমির আলী, হিরন মিয়া, রইছ আলী জানিয়েছেন গ্রামের মানুষ পশুর হাট থেকে পছন্দ করে কোরবানির গরু ক্রয় করে অভ্যস্ত তারা অনলাইন বুঝেন না। ঈদের মাত্র কয়েক দিন বাকি।

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :আশুগঞ্জ উপজেলা গরুর খামার মালিক সমিতির সভাপতি মো. সেলিম মিয়া জানান, এই উপজেলায় পাঁচ শতাধিক খামারে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার গরু কোরবানির হাটে বিত্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। লকডাউনের কারণে গরু বিক্রি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। গরুর হাট না হলে অনলাইনে গরু বিক্রি করে খামারিরা লাভবান হতে পারবে না। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে পশু কেনাবেচার জন্য ফেসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত করোনার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে হাট বসার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।