স্পোর্টস রিপোর্টার
চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি। চার বছর আগে ঘরের মাঠ মিলানেই ২০১৮ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার হতাশায় ডুবেছিল ইতালি। তখনই রব উঠেছিল, অস্তাচলে ইতালির ফুটবলের সূর্য। অন্ধকারাচ্ছন্ন সেই অধ্যায় পেরিয়ে ইউরোপ সেরার গৌরব নিয়ে গতকাল দেশে ফিরেছে ইতালিয়ান ফুটবল দল।
ওয়েম্বলিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে রাজ্যের হতাশায় ডুবিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইতালি। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র ছিল। পরে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় পায় আজ্জুরিরা। ৫৩ বছর পর ইউরোর শিরোপা জিতেছে ইতালি। জর্জিও কিয়েল্লিনির দল ওয়েম্বলিতে লিখেছে নতুন গৌরবগাঁথা। এটিকে ধরা হচ্ছে ইতালির ফুটবলের নতুন সূর্যোদয়, পুনর্জাগরণ। রর্বাতো মানচিনির শিষ্যরা দেশটিকে ভাসিয়েছেন উত্সবের আনন্দে।
ফাইনালে সমতা ফেরানো গোলটি করেছেন ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চি। জয়ের আনন্দে ৩৪ বছর বয়সি এ ফুটবলার বলেছেন, ‘এই ট্রফি তাদের জন্য (সমর্থক), এটা আমাদের জন্য। প্রথম দিন থেকে বলেছি, আমরা বিশ্বাস করি যে, আমরাই এটা পারব। বিশ্বের সব প্রান্তে আজকে উদ্যাপনের অধিকার তাই কেবল ইতালিরই আছে।’
তিনি আরো বলেছেন, ‘এটা অবশ্যই ইতালিয়ান ফুটবলের পুনর্জাগরণ। আমি নিশ্চিত, এই দল ও কোচ সামনে অনেক খবরের শিরোনাম হবে। আমরা স্পেশাল, কারণ যেদিন আমরা একসঙ্গে হয়েছি, একদম সেদিন থেকেই বিশ্বাস রেখেছি যে আমরা পারব।’
ইউরো মিশনে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন কিয়েল্লিনি। ৩৬ বছর বয়সি ইতালিয়ান অধিনায়কের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে, ট্রফিটা কত আরাধ্য ছিল তাদের কাছে। তিনি বলেছেন, ‘চোখের পানি ফেলেছি আমি। এই সাফল্য আমাদের প্রাপ্য। এই বয়সে আমরা আরো বেশি করে বুঝতে পারি যে এরকম একটি ট্রফি জয়ের অর্থ কী।’
কোচ মানচিনির মতে তিন বছরের একটা চক্র পূরণ করেছে ইতালি দল। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটাকে তৈরি করেছেন বড় মঞ্চের জন্য। টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার গৌরব অর্জন করল আজ্জুরিরা। দলটার বিশ্বাস ছিল বড় কিছু আসছে। হাল না ছেড়ে তাই গোটা লড়ে গেছে ট্রফির আশায়। ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের দর্শকদের ‘ইটস কামিং হোম’ গর্জন থামিয়ে দিয়েছে ইতালি। ক্যামেরার সামনে মুখ নিয়ে বোনুচ্চি চিত্কার করে বলেছেন, ‘ইটস কামিং টু রোম।’
