স্পোর্টস রিপোর্টার
উত্সবের সব প্রস্তুতি ছিল সম্পন্ন। ৫৫ বছর পর আবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসেছিল ইংল্যান্ডের ফুটবল উঠানে। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডের সামনে ইতালি। যাদের ইউরোর স্বাদ নেওয়া আছে ১৯৬৮ সালে। বারবার শুধু পথ হারিয়েছে ইংল্যান্ড। সেই ইংল্যান্ড এবার সব বাঁধা পেরিয়ে ঘরের মাঠে ফাইনালে উঠল। মাঠে নেমেই দুই মিনিটও হয়নি এরই মধ্যে গোলও পেয়ে গেল। এগিয়ে থাকা ফাইনাল জিততে পারল না ইংল্যান্ড। আবার ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভাঙল। টাইব্রেকিংয়ে ইতালি ৩-১ গোলে ইল্যান্ডকে হারাল। ১২০ মিনিট ছিল ১-১। অথচ কিকঅফের পরই গোল পেয়ে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড।
সিএনএন সংবাদ মাধ্যমেও দেখা গেল ইংল্যান্ড লুক শর গোলে ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে ইউরোর দ্রুততম গোলে এগিয়ে গেল। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, টমক্রুজ, বেকহ্যাম, প্রিন্স হ্যারি তাদের সঙ্গে উপচে পড়া দর্শক, আওয়াজ করে আকাশ ফাটিয়ে দিল। গোল হজম করে নিজেদের গুটিয়ে নেয়নি। আক্রমণেই ছিল। কিন্তু ইতালি ইংলিশদের আক্রমণকে ছাপিয়ে এমন পরিস্থিতি এনে দাঁড় করাল যে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, স্টারলিংদের নাকে পানি ঢুকছে। ৬৭ মিনিটে ইতালির লিয়োনার্দো বুনচ্চি সমতা সূচক যে গোলটি করলেন সেটা খেয়াল করলেই ছবিটা পরিষ্কার। বল গোল লাইন পার হচ্ছিল স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন দাঁড়িয়ে ছিলেন গোল লাইনের ওপর। হ্যারির এখানে থাকার কথা না। কিন্তু ইতালির আক্রমনের চাপে গোল বাঁচাতে নেমে এসেছিলেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ৩০ মিনিটের খেলায়ও গোল হয়নি। টাইব্রেকিংয়ে গিয়ে রাশফোর্ড, সানচো এবং সাকা স্পটকিক মিস করেন।
কোচ গ্যারেথ সাউথগেট তার ফুটবল ক্যারিয়ারে শেষ শট মিস করেছিলেন জার্মানির বিপক্ষে। সেই সাউথ গেট এত বছর পর কোচ হয়ে ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তুললেন। এবারও সেই একই ঘটনা দেখল ফুটবল দুনিয়া। শেষ শট হতে গোল করতে পারেননি ১৯ বছর বয়সি সাকা। সাউথগেটকে নিয়ে সমালোচনা হলো কেন তিনি টেনশনের ফাইনালে পিচ্ছি-পাচ্ছি দিয়ে স্পটকিক করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
৫৫ বছরের অপেক্ষা আরো লম্বা হলো। সেই দুঃখ ভুলতে পারছে না ইংলিশরা। ইংল্যান্ড হেরে যাওয়ায় ইংলিশ দর্শক মাঠের বাইরে মারামারি করেছে। ভাঙচুর করেছে। ফাইনালের আগে স্টেডিয়ামে ঢোকা নিয়েও তারা মারামারি করেছে। ফাইনালের আগে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ইংলিশ ফুটবলারদের চিঠি দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছিলেন, ৬৬ বিশ্বকাপ জয়ী দলের হাতে তিনি পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন। এবারও সেই ছবিটি দেখার অপেক্ষায় থাকবেন। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ইচ্ছা পূরণ হলো না। ইংলিশদের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেছেন, ‘এর চেয়ে ভালো খেলাটা আমরা খেলতে পারতাম না। ফাইনালের রাতটা আমাদের ছিল না। আমরা সেরা খেলা খেলেও যদি চাম্পিয়ন হতে পারি তাহলে বলতেই হয় রাতটা আমাদের ছিল না। স্পটকিকে হেরে যাওয়ার এই দুঃখ কোনো দিনও ভুলতে পারব না আমরা। এই কষ্ট সারাজীবন আমাদের বয়ে বেড়াবে। ব্যথা দেবে। রাশিয়া বিশ্বকাপে যতটা ভালো খেলেছিল তারও ঢের বেশি ভালো খেলেছে এবারের ইউরোতে। চ্যাম্পিয়ন না হলেও আমরা মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছি।’
