দম্পতিসহ পাঁচ জন গ্রেফতার
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীতে জাল নোট তৈরির একটি কারখানার সন্ধান মিলেছে। যেখানে এক দম্পতি মিলেমিশে মাসে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের নোট তৈরি করত। আর ১ হাজার টাকার ১০০ জাল নোটের বান্ডেল অর্থাত্ ১ লাখ জাল টাকা তারা পাইকারিতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করত। গতকাল সোমবার দুপুরে বাড্ডার নুরের চালা সাঈদ নগরের একটি সাততলা বাড়ির ষষ্ঠ তলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় আব্দুর রহিম শেখ, তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম, হেলাল খান, আনোয়ার হোসেন ও ইসরাফিল আমিনকে।
গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, এই কারখানাটি থেকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকার জাল নোট ও এসব নোট তৈরির প্রচুর পরিমাণ উপকরণ মিলেছে। ঘরোয়া ঐ কারখানাটির মালিক রহিম ও ফাতেমা মাসে কোটি কোটি টাকার জাল নোট তৈরি করত। ফাতেমা ২০১৯ সালে হাতিরঝিল এলাকার একটি বাসায় জাল নোট তৈরির সময় অপর সহযোগীসহ হাতেনাতে ধরা পড়লেও তার স্বামী রহিম পালিয়ে গিয়েছিল। এরা সবাই জাল নোট তৈরি ও মাদকের কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল বলে মশিউর জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট খুচরা এবং পাইকারি বিক্রি করার পাশাপাশি গত তিন বছর ধরে ঈদসহ অন্যান্য উত্সবের আগে-ভাগে জাল নোট তৈরি করে বাজারে ছাড়ার কথা তারা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। বিশেষ করে কোরবানির হাটে এই টাকা তারা বেশি ছাড়ে।
মশিউর বলেন, হেলাল খান এক সময় গার্মেন্টস পণ্যের ব্যবসা করলেও ইয়াবার নেশা ও কারবার করে লোকসানের শিকার হয়। এখন কক্সবাজার-টেকনাফ থেকে ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি জাল টাকা তৈরিতে যুক্ত। তিনি বলেন, ১ হাজার টাকার ১০০ জাল নোট তৈরিতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। তাই তারা ১ হাজার টাকার ১০০টির বান্ডেল পাইকারিতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে বলে জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।
