প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্প
মো. কামরুল ইসলাম সোহাগ,
দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
দশমিনা উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক (পিইডিপি-৪) প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থ কাজ না করেই ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩০ জুন প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থ তুলে নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান কাজ দেখা যায়নি।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ১৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দগুলো ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে উপজেলায় ছাড় করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে অবশ্যই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। প্রকল্পগুলো উপজেলার ১৪৫টি বিদ্যালয়ে স্লিপের জন্য ৭৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ৬৮টি বিদ্যালয়ে রুটিন মেরামতের জন্য ২৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৬৮টি বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, দুর্যোগকালীন জরুরি খাত থেকে দুটি বিদ্যালয়ে ৬ লাখ টাকাসহ মোট ২ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, এ কাজ করতে উপজেলা এলজিইডির দপ্তর থেকে প্রাক্কলন প্রস্তুত করে কাজ শেষে আবার এলজিইডির প্রত্যয়ন নিয়ে বিল ভাউচার ঠিক করে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে অ্যাকাউন্স অফিস থেকে বিল পাশ করাতে হয়। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো কাজ না করিয়ে নিয়ম ঠিক রেখে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে বিধিবহির্ভূতভাবে সমুদয় অর্থ উত্তোলন করে অফিসের অ্যাকাউন্টে রেখেছেন। চিঠিতে বলা আছে কাজ শেষে বিল পাশ হলে অবশ্যই বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর অথবা ক্রস চেকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে প্রদান করতে হবে। এদিকে অধিকাংশ বিদ্যালয়ের দিকে তাকালে মনে হয় ভবন নির্মাণের পর থেকে এ পর্যন্ত তার কোনো পরিচর্যা করা হয়নি। দুর্বল তদারকির কারণে অনেকেই কাজ না করে বিল উঠিয়ে ভাগবাঁটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ করেন কিছু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকরা আরো জানায়, ‘উপজেলা পরিষদ, এলজিইডি, অ্যাকাউন্স ও আমাদের শিক্ষা অফিসসহ চারটি দপ্তরে ভ্যাটসহ ৩০ শতাংশ করে আগে টাকা জমা দিতে হবে। এছাড়াও স্কুল কমিটির সভাপতিকেও টাকা দিতে হবে, এই টাকা দেওয়ার পরে কয় টাকা থাকবে আর তা দিয়ে কি কাজ করব।’
৭৫ নম্বর দক্ষিণ আরজবেগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন শীল বলেন, ‘করোনার মধ্যে অফিস বন্ধ ছিল। তাই ৩০ জুন টাকা পাশ না হওয়ায় কাজ করানো হয়নি।’ রামবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজামুল করিম বলেন, ‘শিক্ষা অফিসের অ্যাকাউন্টে টাকা উঠিয়ে জমা রেখেছে। গত বছরের মতো এ বছরও জুলাইর শেষে সবাইকে টাকা দেবে। তাই কাজ শেষ করতে পারিনি।’
অভিযোগের বিষয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কমিটির অনুমোদন পেতে দেরি হয়েছে। টাকা উঠিয়ে শিক্ষা অফিসের অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছি। এখন পর্যন্ত কাউকে টাকা দেইনি। উপজেলা শিক্ষা কমিটি কাজ দেখার পরে স্কুলের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘কাজ না করে টাকা উত্তোলন করার কোনো সুযোগ নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। এরকম যদি কিছু হয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেব।’ শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ মিয়া ইত্তেফাককে বলেন,‘শিক্ষা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য একটু দেরি হওয়ায় কাজ করানো সম্ভব হয়নি। আমি কাজের স্টিমিট নিয়ে কয়েকটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি সেগুলোয় দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখিনি। যে কাজ প্রয়োজন হয় না (ভালো আছে) সেই কাজের স্টিমিট করা হয়েছে। তাই কাউকে টাকা দেওয়া হয়নি। ’
