আগামী ২১ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু রাজশাহীতে এখনো জমে ওঠেনি পশুর হাট। নগরীর উপকণ্ঠে অবস্থিত এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুর হাট ‘সিটিহাটে’ করোনার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের উপস্থিতি তেমন নেই বলে জানিয়েছেন হাটের ইজারাদারের লোকজন, বিক্রেতা ও রাখালেরা। তবে তাদের নিজেদের মধ্যে যে ‘করোনা-ভীতি’ নেই, তা উল্লিখিত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলার প্রবণতা দেখেই বোঝা যায়। দেশে করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় ১৪ জুলাই পর্যন্ত কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সবাইকে মাস্ক পরিধানের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বলা হচ্ছে। তবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কোনো বালাই নেই সিটিহাটে আসা বিক্রেতা, রাখাল ও ব্যাপারীদের মধ্যে। অনেকে ঠিকমতো মাস্কও পরছেন না।
ক্রেতা কম থাকলেও সিটিহাটে প্রচুর গরু ছিল। সেই সঙ্গে ছিল গরু-বিক্রেতা ও রাখালদের ব্যাপক উপস্থিতি। শুধু মহানগরীর গরুই নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মালিকরা গরু বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসেন। অনেক গরু আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেও। এসব গরু কিনতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন ব্যাপারীরা। একেক ব্যাপারী শত শত গরু কিনে ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
রবিবার ও বুধবার—সপ্তাহে এই দুদিন সাধারণত সিটিহাট বসে। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গত রবিবার থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত গভীর রাত পর্যন্ত হাট চলবে বলে জানিয়েছেন সিটিহাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু। তিনি বলেন, আমরা বারবার মাইকিং করছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলছি। মুখে মাস্ক পড়তে ও হাতে স্যানিটাইজার দিতে বলছি। হাটে মাস্ক ও স্যানিটাইজার কিনতেও পাওয়া যাচ্ছে। তারাও (ইজারাদার ও তার লোকজন) ফ্রি দিচ্ছেন।
হাটে গরু বিক্রেতা ও ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি। মাঝারি আকারের গরু কিনতে ব্যাপারীদের গুনতে হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা। আর বড় আকারের গরু ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আরো বড় গরুর দাম তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত। এমন দামে গরু কিনেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরো বেশি দামে বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন ব্যাপারীরা।
জেলার পুঠিয়া থেকে গরু বিক্রি করতে আসা রহমত উল্লাহ জানান, তিনি বিক্রির জন্য দুটো গরু নিয়ে আসেন। গরুপ্রতি ৭০ হাজার টাকা চেয়েছেন। তবে তখন পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা দাম বলেন ব্যাপারীরা। তাই তিনি বিক্রি করেননি। পবা থেকে আসা জহুরুল হক বলেন, গরুর হাটে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব নয়। তিনি দুটি গরু নিয়ে এসেছেন, বিক্রি হলেই চলে যাবেন।
সিটি হাটে দায়িত্বরত শাহ মখদুম থানার পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, গরুর হাটের অবস্থা যা দেখছেন তাই। তারা অনেকেই হাটে দায়িত্ব পালন করছেন। যতটা সম্ভব সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টাও করছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গরুর হাটে আগতদের মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
