হ্যাচারিতে নয়, এখন থেকে পুকুরেই উত্পাদন করা যাবে গলদা চিংড়ির পোনা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গবেষকরা উপকূলীয় বটিয়াঘাটা উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের পুকুরে গবেষণা চালিয়ে গলদা চিংড়ির পোনা উত্পাদনে সফল হয়েছেন। এর ফলে পোনার অভাবে গলদা চিংড়ি চাষ যে সংকটের মুখে পড়েছিল সেই সংকট এখন নতুন সম্ভাবনার আশা জাগিয়েছে।
পুকুরে গলদা চিংড়ির পোনা (পিএল) উত্পাদন এবং তা দিয়ে চিংড়ি চাষ সম্প্রসারিত হলে প্রাকৃতিক ও হ্যাচারি উেসর ওপর নির্ভরতা কমবে। অপরদিকে পুকুরে গলদা চিংড়ির উত্পাদন বৃদ্ধি হলে রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। প্রকল্পের প্রধান গবেষক ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. নাজমুল আহসান জানান, গলদা চিংড়ি হ্যাচারিতে পোনা উত্পাদনে ধস এবং উপকূলের প্রাকৃতিক উত্স থেকে পোনা আহরণ নিষিদ্ধ হওয়ায় পোনা সংকটে পড়তে হচ্ছে। ফলে উত্পাদন ও রপ্তানিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রতিকূলতার কারণে চাষিরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এ অবস্থায় তারা পুকুরে পোনা উত্পাদন প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে গবেষণা করেন। গ্রামের পুকুরে পুকুরে গলদা চিংড়ির চাষ বাড়লে চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। খুবি সূত্র জানায়, গবেষকরা ২০২০ সালের শুরু থেকে এই গবেষণা চালিয়ে পুকুরের পানিতে গলদার পোনা উত্পাদনে লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। বটিয়াঘাটা উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামে পুকুরের জমি লিজ নিয়ে তারা এ গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেন। পুকুরের পানিতে উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে তারা কিছু প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত কলাকৌশল কাজে লাগান। এখানে পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা, অক্সিজেনের উপস্থিতি, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, পানির প্রবহতা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্য। প্রাকৃতির পরিবেশ ও লাগসই প্রযুক্তির সমন্বয়ে তারা গলদা চিংড়ির পোনা উত্পাদনে সাফল্য লাভ করেন। তাদের গবেষণা পুকুরের পোনা দিয়ে এখন কয়েকটি অধিক্ষেত্রে চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কয়েকটি মিনি পুকুরও রয়েছে।
প্রকল্পের কো-ইনভেস্টিগেটর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহীন পারভেজ জানান, সলিডারেডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া, বাংলাদেশের সহযোগিতায় সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর ক্লাইমেট রেজিলেন্ট কোস্টাল ফুড সিস্টেম এর আওতায় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রান্টস ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন এডুকেশন (গেয়ার) এর অর্থায়নে এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি সহযোগিতায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, বৃহত্তর পরিসরে এই গবেষণা সম্প্রসারণ ও এই প্রযুুক্তি দ্রুত মাঠ পর্যায়ে হস্তান্তরের তাগিদ দেন; যাতে চিংড়ি চাষিরা উপকৃত হতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি এ প্রকল্পে অর্থ জোগানদাতা সলিডারেডাড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গেয়ারকেও ধন্যবাদ জানান।
