সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড

৪৮ লাশের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন, নারী ৩১

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ২২:৩৮

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতায় সজীব গ্রুপের হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৮ জনের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও ৩১ জন নারী। লাশগুলো থেকে ডিএনএ স্যাম্পল গ্রহণের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গতকাল সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় এখন পর্যন্ত কারো লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত হতে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। গত রবিবার পর্যন্ত ৪৫ লাশের বিপরীতে ৬৩ জনের নমুনা সংগ্রহের পর গতকাল সিআইডি কার্যালয়ে আরো তিনটি লাশের জন্য আরো পাঁচ জন নমুনা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গ সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার ঘটনাস্থল থেকে ৪৮টি বডিব্যাগে ভরে লাশ আনা হয় মর্গে। এদের মধ্যে একটি বডিব্যাগে দুই খণ্ড লাশ ভরা ছিল। লাশের দুই খণ্ডের হিসাব ধরে ঐ সময় ৪৯টি লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশের দুই খণ্ড পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হয় যে একই লাশের দুই খণ্ড। এ কারণে পরবর্তীকালে লাশের সংখ্যা জানানো হয় ৪৮।

সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, রবিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গের সামনে থেকে নমুনা সংগ্রহের বুথ উঠিয়ে নেওয়া হয়। তখন পর্যন্ত ৪৫টি লাশের বিপরীতে ৬৩ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। নতুন কেউ নমুনা দিতে চাইলে সিআইডি কার্যালয়ে আসার অনুরোধ করা হয়েছিল। গতকাল আরো তিনটি লাশের জন্য পাঁচ জন নমুনা দিয়েছেন। তারা হলেন, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা নিহত মো. স্বপন মিয়ার (২৩) বাবা মনকার হোসেন ও তার ভাই মো. মশিউর রহমান, বগুড়া সারিয়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা নিহত মোছা. নাজমা খাতুনের বাবা নয়ন মিয়া, মা কল্পনা বেগম ও স্বামী মো. তহিদুল ইসলাম এবং বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের বাসিন্দা নিহত মো. নোমানের বাবা আবদুল মান্নান মাতুব্বর। এ নিয়ে ৪৮ লাশের বিপরীতে গতকাল পর্যন্ত মোট ৬৮ দাবিদারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হলো।

সূত্র আরো জানায়, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ৪৮ লাশের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ১৮ জন, ভোলার পাঁচ জন, নোয়াখালীর চার জন, নেত্রকোনার তিন জন, নারায়ণগঞ্জের দুই জন, হবিগঞ্জের তিন জন, গাইবান্ধার দুই জন এবং মৌলভীবাজার, গাজীপুর, রাজশাহী, নরসিংদী, পাবনা, দিনাজপুর, জামালপুর, ঢাকা, নীলফামারী, বগুড়া ও বরিশালের একজন করে।          

সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা আক্তার বলেন, গতকাল পর্যন্ত ৪৮ লাশের বিপরীতে ৬৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন আর কেউ নমুনা দিতে চাইলে সেটিও নেওয়া হবে। এজন্য কষ্ট করে সিআইডি কার্যালয়ে এসে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

গত ৮ জুলাই বিকালে রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার প্রথম দিন তিন জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশত শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ১৮টি ইউনিট ২০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর গত ৯ জুলাই সকালে ঐ ভবনের চারতলা থেকে ৪৯ জনের অঙ্গার হওয়া লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস। সে হিসেবে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জনে। কিন্তু লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর সিআইডি জানায়, ৪৯ নয় ঢামেক মর্গে ৪৮টি লাশ ছিল। সে হিসেবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫১ জন। তবে কোনো লাশবহনকারী ব্যাগে দুটি লাশ থাকলে সেটি নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যাবে।