জর্ডানে রাজপরিবারে অশান্তি, দুই সদস্যদের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২১, ০৯:৫৭

রাজতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জর্ডানের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং উসকানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার (১২ জুলাই) এ রায় দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। যে দুই জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন— রাজপরিবারের সদস্য শরিফ হাসান বিন জায়েদ এবং বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সাবেক শীর্ষ সহযোগী বাসেম আওয়াদাল্লাহ।

রায়ে আদালত বলেছে, উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণে নিশ্চিত হয়েছে যে, এ দুই ব্যক্তি সিংহাসনের সাবেক উত্তরাধিকারী যুবরাজ হামজাকে বিকল্প বাদশাহ হিসেবে উপস্থাপনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থেকে রাজপরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন।

জর্ডানের অর্থনৈতিক সংস্কারের পেছনে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা সাবেক অর্থমন্ত্রী আওয়াদাল্লাহর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণের নিরাপত্তায় হুমকি তৈরি এবং রাষ্ট্রদ্রোহের বীজ বপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অবশ্য তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং বলেছেন, এ ঘটনায় তার বিন্দুমাত্র যোগসূত্র নেই। এ দুই জনের বিরুদ্ধে বিদেশি সহায়তা খোঁজারও অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তারা অস্বীকার করেছেন। শরিফের এক আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। গত ২১ জুন থেকে আওয়াদাল্লাহ ও শরিফের বিরুদ্ধে আদালতে শুনানি চলছিল। তাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

Jordan sentences 2 officials to 15 years in jail over alleged coup plot -  La Prensa Latina Media

গত এপ্রিলে জর্ডানের যুবরাজ প্রিন্স হামজা বিন হুসেইন এক ভিডিও-বার্তায় তাকে গৃহবন্দি রাখার অভিযোগ করেন। এর পরপরই দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী আয়মান সাফাদি ঘোষণা দেন, প্রিন্স হামজা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে জড়িত। এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্স হামজার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে আয়মান সাফাদি বলেন, হামজা ও আরো কয়েক জন বিদেশি একটি দলের সঙ্গে মিলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রিন্স হামজা সরকারের বিরুদ্ধে উপজাতীয় নেতাদের দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন। এ ব্যাপারে অনেক দিন ধরেই তদন্ত চলছিল এবং বিষয়টি আদালতে তোলা হবে। সেই সময় জানা গিয়েছিল, প্রিন্স হামজাকে গৃহবন্দি করার পাশাপাশি অন্তত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে বাদশাহ আবদুল্লাহর একজন উপদেষ্টা এবং রাজপরিবারের একজন সদস্য রয়েছেন। উচ্চপর্যায়ের এই লোকদের গ্রেফতার করাকে ‘অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত’ বলে উল্লেখ করা হয়।

হামজা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন না। তবে আইনজীবীর মাধ্যমে গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো এক ভিডিওতে রাজপরিবারের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও হয়রানির অভিযোগ আনেন তিনি। তার এই বক্তব্যের জেরে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয় জর্ডানে। পরে অবশ্য বাদশাহর আনুগত্য স্বীকারের মাধ্যমে সাজা এড়ান প্রিন্স হামজা।

ইত্তেফাক/টিআর