রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে মৃত্যুর মিছিল আবারও বেড়েছে। এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে আজ মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ৮ জন, করোনা নেগেটিভ ১ জন এবং করোনার উপসর্গে ১০ জন মারা যান। রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ নিয়ে জুলাই মাসের ১৩ দিনে রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে ২২৫ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মারা যান এক জুলাই ২২ জন ও সবচেয়ে কম ৪ জুলাই ১২ জন। এর আগে গত জুন মাসে এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা ও উপসর্গে মারা যান ৪০৫ জন।

রামেক পরিচালক জানান, নতুন মৃতদের ৬ জন রাজশাহীর (পজিটিভ ৪, উপসর্গে ২), নাটোরের ৩ (পজিটিভ ১, উপসর্গে ২) জন, নওগাঁ ৩ (পজিটিভ ১, নেগেটিভ ১, উপসর্গে ১) এবং পাবনা ৩ (উপসর্গে) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ (পজিটিভ ১ উপসর্গে ১) জন, বগুড়ার ১ ও সিরাজগঞ্জের ১ জন। নতুন মৃত ১৯ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী। এদের মধ্যে সাতজনের বয়স ৬১ বছরের ওপরে, ১০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং ২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
তিনি বলেন, আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এ হাসপাতালের ৪৫৪ বেডের বিপরীতে করোনা ও উপসর্গের রোগী ভর্তি রয়েছেন ৫০৪ জন। গতকাল রবিবার ভর্তি ছিলেন ৫১৭ জন। আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১৯ জন। অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করে অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৬৩ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৬ জন।
পরিচালক জানান, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৫০৪ জনের মধ্যে ২৪১ জনের করোনা পজিটিভ রয়েছে। আর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৯৮ জন। এছাড়াও চিকিৎসা নিয়ে করোনামুক্ত হওয়ার পর ফুসফুসে ইনফেকশনসহ পরবর্তী শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫২ জন। রাজশাহীতে করোনার সংক্রমণ আরও উর্ধ্বমুখী

এদিকে, রাজশাহীতে আরও বেড়েছে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার। সোমবার দুইটি ল্যাবে রাজশাহী জেলার ৪৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৫৮ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। সোমবারের পরীক্ষায় করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আগের দিন রবিবার ছিল ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তার আগে দিন শনিবার ছিল ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শুক্রবার ছিল ৩৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বৃহস্পতিবার ছিল ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ, বুধবার ছিল ২৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ, মঙ্গলবার ছিল ২১ দশমিক ৯২ শতাংশ, সোমবার ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ, গত রবিবার ছিল ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং শনিবার ছিল ৩৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
শামীম ইয়াজদানী জানান, এ দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পৃথক দুইটি ল্যাবে দুই জেলার ৭১২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ এসেছে ২৪৩ জনের। রাজশাহী জেলা ছাড়াও নওগাঁ জেলার ২৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৫ জনের পজিটিভ এসেছে।
গত ঈদ উল ফিতরের পর রাজশাহীতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকে। সংক্রমণ ৬০% এর কাছাকাছি হলে গত ১১ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। পরে দুই দফা বাড়িয়ে সর্বাত্মক লকডাউন ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপর ১ জুলাই থেকে সারাদেশে নতুন করে সরকারি ঘোষিত দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন শুরু হয়।
ইত্তেফাক/এএএম
