স্টাফ রির্পোটার, রংপুর
বিধিনিষেধের আওতামুক্ত হওয়ার পরও পণ্যবাহী পরিবহন সংকটে দেশের বিভিন্ন জেলায় সবজি সরবরাহ করতে পারছেন না রংপুরের সবজি উত্পাদননির্ভর চাষিরা। উত্পাদিত সবজি নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
তারা জানায়, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে চলছে সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ। সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধ রাখাসহ যান চলাচল রয়েছে সীমিত। জরুরি সেবা ও কৃষিপণ্যবাহী পরিবহন রয়েছে বিধিনিষেধের আওতামুক্ত। তবে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে পরিবহন সেক্টরের বেশির ভাগ মালিক-চালক ও শ্রমিকরা গাড়ি চালাচ্ছেন না। আবার অনেকে বিধিনিষেধের দোহাই দিয়ে পণ্যবাহী পরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে করেছে দ্বিগুণ। এতে করে চাহিদা অনুযায়ী পরিবহন সেবা পাচ্ছেন না কৃষকরা। অন্যদিকে করোনার অজুহাতে অর্ধেক দামে পাইকাররা সবজি কিনছেন। ফলে উত্পাদিত ফসলের দাম না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। অন্যদিকে বাজারজাত করতে না পারায় খেতেই নষ্ট হচ্ছে সবজি।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকাসহ রংপুরের আট উপজেলায় ৯ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩৮৫ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ বেড়েছে। জেলার মিঠাপুকুরের রানীপুকুর গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া জানান, গাড়ি ভাড়া বেশি। লাভের চেয়ে লোকসানের বোঝা বাড়ছে। এ কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মাল পাঠানো যাচ্ছে না। ট্রাকচালকরা করোনা ঝুঁকি নিয়ে কোথাও ভাড়ায় যেতে চায় না। একই এলাকার অন্য চাষি গোলাম রব্বানী বলেন, লকডাউনের কারণে অনেক পাইকার সবজি কিনতে আসছে না। গাড়ি ভাড়াও বেশি। সব মিলিয়ে এবার সবজি নিয়ে বিপদে আছি।
সরজমিনে দেখা যায়, রংপুর নগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্ট্যান্ডে শত শত ট্রাক পড়ে আছে। কঠোর বিধিনিষেধ ও মামলা-জরিমানার ভয়ে পিকআপ ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান চলাচলও সীমিত রয়েছে। কোথাও পরিবহন সেবা মিললেও অন্য সময়ের চেয়ে এখন দিতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। ট্রাকের চালকরা বেশি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। উলটো তাদের অভিযোগ, বিধিনিষেধের কারণে সড়কে আগের চেয়ে প্রশাসন এখন কঠোর অবস্থানে। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে জেরা করা হচ্ছে। কাগজপত্রের একটু ভুল পেলেই মামলা ঠুকিয়ে দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ।
রংপুর জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরি-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিক বলেন, করোনার কারণে আমরা সবাই বিপাকে আছি। পরিবহন মালিকদের ব্যাংকের লোন পরিশোধে লেনদেন করতে হচ্ছে। তাদের টাকার প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ড্রাইভার-হেলপার ও শ্রমিক করোনার ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে আসছে না।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, রংপুরে এবার শাকসবজির উত্পাদন ভালো হয়েছে। করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার। এতে করে পরিবহন চলাচল সীমিত হয়েছে। তবে কৃষিপণ্যবাহী পরিবহনের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা মহামারির কারণে রংপুরে কম আসছে। যার কারণে কৃষকরা সবজির দাম কম পাচ্ছে।
