টিকাকেন্দ্রের দুর্ভোগ বন্ধ হোক

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০০:২২

দেশে সহসা করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চীনের সিনোফার্ম ও যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার-বায়োএনটেক টিকার ওপর ভরসা করে চলতি মাসেই ফের দ্বিতীয় দফায় টিকা নিবন্ধন কর্মসূচি ও গণটিকাদানের ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সিনোফার্ম ও ফাইজারের সঙ্গে ১৩ জুলাই থেকে দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার টিকাও। পূর্বে যারা টিকার সম্ভাব্য ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য ভয়-ভীতির কারণে টিকা গ্রহণে অনুত্সাহী ছিল তারাও এবার পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কায় আগ্রহান্বিত হয়ে টিকা নিবন্ধন করছে। ফলে লক্ষণীয় হারে বেড়েছে টিকা নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ও টিকাকেন্দ্রে মানুষের ভিড়। দ্বিতীয় দফায় কেবল গত রবিবার পর্যন্তই নিবন্ধন করেছে ৯ লাখ ৫৫ হাজার জন।

কিন্তু নিবন্ধকারীদের অনেকেরই অভিযোগ, মুঠোফোনে টিকার বার্তা পেয়ে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে গিয়েও টিকা ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে অনেককে। কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কেন্দ্রে গিয়ে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও টিকা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসায় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা জনগণকে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, টিকা না এসে থাকলে কেনইবা বার্তা পাঠানো হচ্ছে? জনদুর্ভোগ লাঘব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও টিকাদান কেন্দ্রগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। জনস্বার্থে ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচি যেন জনগণের দুর্ভোগ ও ক্ষুব্ধতার কারণ না হয়। পাশাপাশি জনগণকেও আরো সচেতন হতে হবে। টিকার নিশ্চিত বার্তা না পেয়েই কেন্দ্রে ভিড় জমানো বন্ধ করতে হবে।

মুহাম্মদ ইয়াসিন, চট্টগ্রাম