কর্ণফুলী নদীকে বাঁচাতে হবে

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০০:২২

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও অন্যতম জনপথ চট্টগ্রামের অবস্থান কর্ণফুলী নদীর তীরে। দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান বন্দরও এই নদীর তীরে অবস্থিত। এই কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল (বঙ্গবন্ধু টানেল) যা গড়ে তুলবে ওয়ান সিটি টু টাউন। দেশের ভৌগোলিক, যোগাযোগ, অর্থনৈতিকসহ নানা কারণে কর্ণফুলীর গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু এই নদী যেন দিন দিন দূষণ, অবৈধ দখল ও ভরাটের কবলে পড়ে তার সত্তা হারিয়ে ফেলতেছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৩৬টি খাল ও নালা দিয়ে প্রতিদিন ২ হাজার ২০০ টন বর্জ্য সরাসরি কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। এতে নদীতে বোতল, কাপড়, পলিথিনসহ শক্ত স্তর সৃষ্টি হচ্ছে। কর্ণফুলীর এই করুণ অবস্থার জন্য দখল এবং ভরাটও অন্যতম দায়ী। বলা যায়, বিগত দশকে কর্ণফুলীর প্রশস্ততা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কর্ণফুলীর এই সংকোচনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরও অনেকটা দায়ী। হাইকোর্ট থেকে নদীর পাড়সহ বিভিন্ন জায়গা ইজারা না দেওয়ার জন্য বলা হলেও, বন্দর কর্তৃপক্ষ ঠিকই ইজারা দিয়ে যাচ্ছে। ইজারা সমস্যা ছাড়াও অন্যতম সমস্যা হচ্ছে কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা। ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট কর্ণফুলীর অবৈধ উচ্ছেদের নির্দেশ দিলে, জেলা প্রশাসন ২ হাজার ১১২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছিল। ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসনের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ৪০ একর ভূমি উদ্ধার করলেও পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান বন্ধ হয়ে যায়। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কর্ণফুলীকে বাঁচাতে হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

মো. তারেক উদ্দিন নিজাম, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়