ডাকাতি করতে এসে খুন করেন পূর্বপরিচিতই

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২১, ২১:৪৬

উত্তরায় দারোয়ান সুবল হত্যাকাণ্ড

ইত্তেফাক রিপোর্ট

উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর সড়কের বাসায় সুবল চন্দ পালের লাশটি ছিল শোয়ানো। তার গলার ডান দিকে ছুরির আঘাত, হাত-পা নাইলনের রশি দিয়ে বাঁধা। খবর পেয়ে গত রবিবার সকালে পুলিশ সুবলের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে তদন্তে জানা যায়, সুবলকে যিনি খুন করেছেন, তিনি তার পূর্বপরিচিত। উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলোও মাঠে নামে। দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে দুই হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—মো. মাসুদ রানা ও মো. মিজানুর রহমান। সুবল যে বাসায় দারোয়ানের কাজ করতেন, ঐ বাসায়ই গাড়িচালক ছিলেন মাসুদ। তখন তিনি প্রায়ই সুবলের ঘরে বসে ইয়াবা সেবন করতেন। মাঝেমধ্যে নারীদেরও নিয়ে আসতেন। মাস দেড়েক আগে মাসুদ চাকরি ছেড়ে সিরাজগঞ্জে চলে যান। সেখানে একটি লুঙ্গি কারখানায় তিনি মাইক্রোবাসচালকের কাজ নিয়েছিলেন।

কেন খুন হলেন সুবল? এ সম্পর্কে উপ-কমিশনার বলেন, প্রথমে তাদের পরিকল্পনা ছিল, দারোয়ানের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে রাখবেন। বাড়ির মালিক ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে ঐ সময় তারা বাসায় ঢুকে ডাকাতি করবেন। এখানে আসার আগে মাসুদ সুবলকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন, এক চাচাতো ভাইকে নিয়ে তিনি একটা রাত থাকতে চান ওখানে। সে অনুযায়ী, ১০ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাসুদ ও মিজানুর সুবলের কক্ষে এসে ওঠেন। সেখানে ইয়াবাও সেবন করেন। পরিকল্পনামতো রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ঘুমন্ত সুবলের হাত-পা বাঁধার চেষ্টা করলে সুবল জেগে ওঠেন। তখন রুমে থাকা একটি ধারালো কাঁচি সুবলের গলায় ধরে তারা তাকে চুপ করে থাকতে বলেন। মিজান এক পর্যায়ে সুবলের গলা নাইলনের রশি দিয়ে প্যাঁচানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তি শুরু হলে মাসুদ সুবলের গলায় ধারালো কাঁচি দিয়ে আঘাত করেন। এতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তারা সুবলের গলা চেপে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। খুনের পর তারা ডাকাতির পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আবারও সিরাজগঞ্জে চলে যান। পুলিশ গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুবলের পরনে থাকা জামা পুড়িয়ে দেওয়ার অংশবিশেষ ও রক্তমাখা জামা উদ্ধার করে। তাছাড়া গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তিমতে ঘটনাস্থল থেকে এক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত কাঁচিটিও উদ্ধার হয়েছে।