৫০ ভাগ মূল্য হ্রাসে ল্যাপটপ ফ্রিজ

নিরাপদ ডট কমের সিইও গ্রেফতার

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২১, ২২:২৫

৫০ ভাগ মূল্য হ্রাসে ল্যাপটপ ফ্রিজসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ৩০ দিনের মধ্যে ডেলিভারির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ই-কমার্স সাইট নিরাপদ ডট কমের সিইও শাহরিয়ার খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত রবিবার রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। এ সময় তার হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহূত পাঁচটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি হার্ড ডিস্ক, বিভিন্ন ব্যাংকের ১৩টি চেক বই, ১৩টি ডেভিড/ক্রেডিড কার্ড, ২৩টি মোবাইল সিম কার্ড, সার্ভারের তথ্য ও অন্যান্য কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, প্রতারণার শিকার ইশতিয়াক আহমেদ নামে এক ব্যক্তি আদাবর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এই অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শাহরিয়ার খানকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রতারণা সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত শাহরিয়ার ২০২০ সালের আগস্ট মাসে নিরাপদ ডট কম নামে একটি অনলাইন ভিত্তিক ই-কমার্স সাইট খুলে বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে এবং তাদের কাছ থেকে পেমেন্ট গেটওয়ের (এসএসএল কমার্স) মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ হাতিয়ে নেন। তারা ৫০ ভাগ ডিসকাউন্টে মোবাইল ফোন সেট, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, ওভেনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ৩০ দিনের মধ্যে হোম ডেলিভারি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকদের প্রলোভিত করত।

তিনি আরো বলেন, নিরাপদ ডট কমের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার এবং ১ মাসের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার অর্ডার পায়। যার মাধ্যমে প্রায় ৭-৮ কোটি টাকা তার ব্যাংক হিসাবে যুক্ত হয়। যারা পণ্য অর্ডার করেছেন তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছাত্র ও অল্প বেতনের চাকরিজীবী। প্রাথমিক অবস্থায় তারা কিছু পণ্য ডেলিভারি করে সেই গ্রাহকদের দিয়ে তাদের পেইজে পজিটিভ রিভিউ পোস্ট করিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের বিশ্বাস স্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে অধিক সংখ্যায় অর্ডার এবং অগ্রিম অর্থ পেলে তারা পণ্য ডেলিভারি না দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে।

বেশকিছু দিন পর গ্রাহকরা যখন বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন তখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ও মিডিয়ার মাধ্যমে এর প্রতিকার দাবি করতে থাকেন। যারা চাপ প্রয়োগ করতে পেরেছেন তাদের টাকা রিফান্ডের কথা বলে ব্যাংক চেক প্রদান করা হলেও টাকা উত্তোলন করতে পারেননি। বারবার চেক ডিজঅনার হওয়ার অভিযোগ আসতে থাকলে প্রতারক গ্রাহকদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। এ ঘটনায় অসংখ্য ভুক্তভোগীদের পক্ষে ইশতিয়াক আহমেদ মামলাটি দায়ের করেন।

ঐ ডিবি কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ২ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট ভিত্তিক ও প্রায় ১ লাখের মতো ফেসবুক ভিত্তিক ই-কমার্স সাইট চলমান রয়েছে। চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলোভিত না হয়ে মার্কেটপ্লেস যাচাই করে পণ্য অর্ডার এবং অগ্রিম মূল্য পরিশোধের পরিবর্তে ক্যাশ অন ডেলিভারি অর্থাত্ পণ্য বুঝে পেয়ে মূল্য পরিশোধ করলে প্রতারণা এমনকি ভোগান্তি থেকে রেহাই মিলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।