কলকাতায় গ্রেফতার তিন জনকে জঙ্গি মানতে নারাজ স্থানীয়রা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২১, ২২:৩৩

কলকাতার হরিদেবপুরে জেএমবির সদস্য সন্দেহে গ্রেফতার তিন জনের ব্যাপারে ভিন্ন কথা বলেছেন গ্রামের বাসিন্দরা। গ্রামের লোকজন বলেন, পেটের তাগিদে তারা কলকাতায় যান। সেখানে তারা ছাতা মেরামতের কাজ করেন। তারা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। 

কলকতায় গ্রেফতার রবিউল ইসলাম ও সাব্বির ওরফে মিকাইলের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামে। অন্যদিকে নাজিউর রহমান ওরফে পাভেলের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী গ্রামে। রবিউল ইসলামের বাবার নাম ইলিয়াছ খান, সাব্বির ওরফে মিকাইলের বাবার নাম মোসলেম খান।

এই তিন জনকে গ্রেফতারের পর কলকাতার সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে সেলিম মুন্সির নাম। ঐ তিন জনকে গ্রেফতারের সময় সেলিম মুন্সি পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে কলকাতার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

সেলিম মুন্সি (৪৫) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামের মৃত সুরাত মুন্সির ছেলে। তিনি গত ২০ বছর ধরে কলকাতার সোদপুরে ব্যবসা করছেন। সেলিমের বড় ভাই হালিম মুন্সিও কলকাতায় থাকেন বলে জানিয়েছেন হিরণ গ্রামে বসবাসরত সেলিম মুন্সির স্ত্রী শাহিনুর বেগম। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার তার স্বামী সেলিম মুন্সি কলকাতা থেকে বাড়িতে এসেছেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সেলিম মুন্সির বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে কলকাতার সংবাদমাধ্যমে তিন জেএমবি সদস্য গ্রেফতার এবং সেলিম মুন্সি নামে এক জনের পলায়নের সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেলিম মুন্সিকে খুঁজতে আইনশৃঙ্খলার বিভিন্ন বাহিনী তত্পর রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে রবিউল ইসলাম, সাব্বির ওরফে মিকাইল ও সেলিম মুন্সির সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা উড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী ও তাদের পরিবার।

হিরণ গ্রামের তুহিন মুন্সি বলেন, ‘সেলিম মুন্সি, রবিউল ইসলাম ও সাব্বির ওরফে মিকাইল এলাকায় ভালো লোক বলে পরিচিত। এরা কোনো মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেনি। আমার জানামতে, জঙ্গিদের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা সবাই খেটে খাওয়া মানুষ। সংসার চালাতে তারা কালকাতায় ছাতা মেরামতের কাজে করতে গিয়েছিল।’

রবিউল ইসলামের বাবা ইলিয়াছ খান বলেন, ‘পাশের গ্রামের একটি মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলে রবিউলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ছয় মাস আগে ঐ মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে আমার ছেলের নামে একটি মামলা দেওয়া হয়। এই মামলার পরে আমার ছেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গত ছয় মাস ধরে আমার ছেলে পলাতক রয়েছে। সেই সময় থেকে আমার সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই।’