বিয়েতে বাধ্য করার প্রতিশোধ নিতেই স্ত্রী-সন্তানকে খুন

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০০:৫২

বরগুনার পাথরঘাটা থানার হাতেমপুর গ্রামে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ ধর্ষক শাহীন মুন্সিকে গ্রেফতার করে গত বছরের ৩ জুলাই। তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর ধর্ষণের শিকার ঐ নারীকে বিয়ে করার শর্তসাপেক্ষে আদালত তাকে জামিন দেয়। জামিন পাওয়ার পরদিন শাহীন মুন্সির সঙ্গে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর একটি মেয়েও হয় তাদের। কিন্তু ধর্ষণ মামলায় জেল খাটতে বাধ্য হয়ে বিয়ে করার প্রতিশোধ নিতেই স্ত্রী-সন্তানকে খুন করেন শাহীন। গতকাল মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার এই মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দেন বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল আমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান রিফাত।

১ জুলাই থেকে শাহীনের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার ও তার ৯ মাস বয়সের সন্তান নিখোঁজ ছিল। ২ জুলাই বাড়ির পাশে নরম মাটি দেখতে পেয়ে সুমাইয়ার বাবা রিপন বাদশার সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি খুঁড়ে তার মেয়ে ও নাতনির লাশ উদ্ধার করেন। ঘটনার সময় থেকেই শাহীন পলাতক ছিলেন। সোমবার রাতে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ টিম চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহীনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর শাহীন জানিয়েছেন, ধর্ষণ করার পর ঐ মেয়েকে বিয়ে করার পর থেকে তিনি পারিবারিকভাবে অশান্তিতে ছিলেন। প্রায়ই স্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হতো। এর জের ধরে তার স্ত্রীকে মাছ ধরা জালের নাইলনের দড়ি গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর বাড়ির পাশে মাটি খুঁড়ে লাশ চাপা দেওয়ার পর ঘরে এসে দেখেন তার ৯ মাস বয়সের মেয়ে কান্নাকাটি করছে। তখন তাকে কোলে করে বাড়ির পাশের খালের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন শাহীন। এরপর স্ত্রীর সঙ্গে মেয়েকেও মাটি চাপা দেওয়া হয়।