তপন কুমার দাস, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা:
প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশকেও আধুনিকায়নের কোনো ছাপ পড়েনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা ও শহরবাসীর নাগরিক সুবিধা দেখভালের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র এতটাই নাজুক যে শহরের যত্রতত্র জমিয়ে রাখা হয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে বড়লেখা পৌরসভা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পার হলেও ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থান করা সম্ভব হয়নি।
সরজমিনে (১২ জুলাই) দেখা গেছে, মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের আইলাপুর এলাকায় (বড়লেখা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড) ময়লা-আবর্জনার স্তূপ রয়েছে। সড়কের উত্তর পাশ ঘেঁষে অন্তত ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে বর্জ্যের স্তূপ জমিয়ে ফেলেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এখানে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বর্জ্য, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, উচ্ছিষ্ট খাবার, কার্টন ইত্যাদি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে স্তূপাকারে রয়েছে। আইলাপুর ছাড়াও শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ১০-১২টি স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ চোখে পড়েছে। গাজিটেকা ও আইলাপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের আইলাপুর এলাকা (পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড) দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। এ সড়ক দিয়ে বড়লেখার চারটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ পৌর শহরে যাতায়াত করেন। গত দুই বছর ধরে সড়ক ঘেঁষে ময়লা ফেলা হচ্ছে। আইলাপুর এলাকায় কথা হয় আব্দুল মন্নানের সঙ্গে। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমার বাড়ি এই এলাকায়। জমি ও খালের কাছে বাজারের ময়লা, ভাঙা কাঁচ, সিরিঞ্জ ফেলা হচ্ছে। গত বছর সিরিঞ্জ (ইঞ্জেকশনের ব্যবহূত সিরিঞ্জের সুচ) পায়ে ঢুকছে। এখন জমিতে যেতে ভয় লাগে। কখন পা কেটে যায়। মেয়রকে আমরা অনেক বার বলেছি। তিনি আমাদের কথা শুনতেই চান না। গাজিটেকা গ্রামের শ্যামল দাস বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা কষ্ট। একই এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, রাতে পৌরসভার গাড়ি ময়লা ফেলে দ্রুত চলে যায়। অনেক বার আমরা বাধা দিয়েছি। তারা বাধা মানতে চায় না। শহরের হাটবন্দ গ্রামের মিনা বেগম বলেন, আমার বাসার কাছেই যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে, এটি পুকুর ছিল। ১০-১৫ বছর ধরে এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। আশপাশের লোকজন প্রতিদিন ময়লা ফেলেন। ময়লায় পুকুরটি ভরাট হয়ে গেছে। গন্ধে ঘরে থাকা কষ্ট। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নয়ন ইসলাম বলেন, আমার বাসা ঘেঁষেই ময়লা ফেলা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। পৌর কর্তৃপক্ষকে অনেক বার বলেছি। কোনো কাজ হয়নি।
এ ব্যাপারে বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য স্থায়ীভাবে একটি জায়গা চিহ্নিত করে বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যভাবে জায়গা ক্রয় করার প্রস্তুতিও আছে আমাদের। তিনি আরো বলেন, এভাবে ময়লা ফেলতে আমরা আগ্রহী নই। আমরা শহরটাকে পরিষ্কার রাখতে পারছি না। বেশি ময়লা তো ঐ এলাকায় ফেলা যায় না। যেগুলো না নিলে নয় সেগুলো নেওয়া হচ্ছে।
