ইরানি সমাজের প্রতিচ্ছবি ‘অ্যা হিরো’

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ২২:১৬

শেকড়ে ফিরে গেলেন পরিচালক আসগর ফারহাদি। স্প্যানিশ ভাষায় প্রথমবার কাজ করার তিন বছর পর ইরানি সমাজকে আবার নিজের মতো করে দেখেছেন তিনি। ৪৯ বছর বয়সি এই নির্মাতা এবার বলেছেন নীতি ও সততার গল্প। তার নতুন ছবি ‘অ্যা হিরো’ কান উত্সবের ৭৪তম আসরে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্বর্ণ পামের জন্য লড়ছে।

পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের তৃতীয় তলায় গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে আসেন আসগর ফারহাদি। তার সঙ্গে কক্ষে প্রবেশ করেন সারিনা ফারহাদি। তারা সম্পর্কে বাবা-মেয়ে। অস্কারজয়ী ‘অ্যা সেপারেশন’-এর (২০১০) পর আবার নিজের ছবিতে মেয়েকে দিয়ে অভিনয় করিয়েছেন তিনি। ইরানের দক্ষিণে দেশটির সংস্কৃতি ও শিল্পকর্মের প্রাণকেন্দ্র পার্সিয়ার প্রাচীন রাজধানী সিরাজে মহামারির মধ্যে ‘অ্যা হিরো’র চিত্রায়ন হয়েছে।

আসগর ফারহাদি এবারের ছবিতে ইরানের জটিল প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে তুলে ধরেছেন। এর ফ্রেমে ফ্রেমে ফাটল ধরা ইরানি সমাজের বাস্তব প্রতিচ্ছবি উদঘাটিত হয়েছে।           বর্তমান সময়ে দৈনন্দিন জীবনযাপনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকাও উঠে এসেছে।

‘অ্যা হিরো’র মূল চরিত্র রহিম (আমির জাদিদি) মিতভাষী তরুণ। স্ত্রীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ হওয়া এক ছেলের বাবা। বোনের পরিবারের সঙ্গে থাকে। দেনা শোধ করতে না পারায় জেল খাটছে রহিম। সে যাকে ভালোবাসে, তার প্রতি মেয়েটির আস্থা আছে। ঘটনাক্রমে মেয়েটি সোনার কয়েন ও টাকাভর্তি একটি ব্যাগ পায়। রহিম প্যারোলে ছাড়া পাওয়ার পর সেসব তাকে দিয়ে ঋণ পরিশোধের জন্য বলে। কিন্তু দেনা শোধের জন্য এই অর্থ যথেষ্ট নয়। এরপর ব্যাগটি তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রহিম। কিন্তু সততা দেখাতে গিয়ে প্রশাসনের জটিলতায় আটকে যেতে থাকে সে।

গত ১৩ জুলাই গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে ‘অ্যা হিরো’র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছে। প্রদর্শনীর শুরুর আগে দর্শক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান আসগর ফারহাদিকে। ছবিটি একই প্রেক্ষাগৃহে গতকাল সকালে আবার দেখিয়েছেন আয়োজকরা।

গতকাল মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে আরো ছিল স্বর্ণ পাম জয়ী ফরাসি পরিচালক জ্যাক অঁদিয়ার ‘প্যারিস থার্টিন ডিস্ট্রিক্ট’, হাঙ্গেরির ইলদিকো আনিয়েদির ‘দ্য স্টোরি অব মাই ওয়াইফ’ এবং আমেরিকান নির্মাতা শন বেকারের ‘রেড রকেট’ ছবি তিনটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার।

আঁ সার্তে রিগা :উত্সবের নবম দিন আঁ সার্তে রিগা বিভাগে দেখানো হয়েছে তিন নারী নির্মাতার দুটি চলচ্চিত্র। এগুলো হলো বুলগেরিয়ার মিনা মিলেভা ও ভ্যাসেল কাজাকোভার ‘উইমেন ডু ক্রাই’ এবং হাইতির জেসিকা জেনেয়ুস পরিচালিত প্রথম ছবি ‘ফ্রেডা’।

প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে :সিনেমা ও জলবায়ু বিভাগে গতকাল প্রদর্শিত হয়েছে জাও লিয়াঙের ‘আই অ্যাম সো সরি’। কান প্রিমিয়ারে ছিল ফরাসি অভিনেতা ও পরিচালক ম্যাথিউ আমালরিকের ‘হোল্ড মি টাইট’। স্পেশাল প্রদর্শনীতে বুধবার দর্শকরা উপভোগ করেছে ‘দ্য ইয়ার অব দ্য এভারলাস্টিং স্টর্ম’। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ইরানের জাফর পানাহি, সিঙ্গাপুরের অ্যান্থনি চেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড লাওয়ারি, মালিক ভিথাল ও লরা পয়েট্রাস, চিলির ডমিঙ্গা সোটোমাইয়র, থাইল্যান্ডের অ্যাপিচ্যাটপঙ বিরাসেতাকুল।

কান ক্ল্যাসিকস :ধ্রুপদি ছবির বিভাগ কান ক্ল্যাসিকসে গতকাল সাল বুনুয়েল থিয়েটারে দেখানো হয়েছে আমেরিকান পরিচালক অরসন ওয়েলেসের ‘এফ ফর ফেক’ (১৯৭৩) এবং চেক রিপাবলিকের ভয়টেশ ইয়াসনি পরিচালিত ‘দ্য ক্যাসান্ড্রা ক্যাট’ (১৯৬৩)। এছাড়া ছিল ইতালিয়ান-ফরাসি অভিনেতা ও গায়ক ইভ মন্ত্যঁর ওপর ফ্রান্সের ইভ জ্যঁলন্দ পরিচালিত নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘অল অ্যাবাউট ইভ মন্ত্যেঁ’।

অন্যান্য বিভাগ :সাল বুনুয়েলে সকাল-বিকাল ছিল শিক্ষার্থী নির্মাতাদের বিভাগ সিনেফঁদাসোর আয়োজন। এবং সাল দ্যু সোসানতিয়েমে ছিল ট্যালেন্টস আদামি সিনেমা। কান শহরের মাল্টিপ্লেক্স সিনেয়ুম, জেডবি­উ ম্যারিয়ট হোটেলের থিয়েটার ক্রজেট, এসপাস মিরামার, আর্কেডস, পালে জি, আলেকস্যঁন্দ থ্রি এবং অলিম্পিয়া থ্রি প্রেক্ষাগৃহে দিনভর প্রদর্শিত হয়েছে প্যারালাল বিভাগ ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইক এবং এসিডে নির্বাচিত ছবিগুলো।

গতকাল ছিল ফ্রান্সের জাতীয় দিবস। এ উপলক্ষ্যে স্থানীয় সময় রাত ১০টায় সিটি হল অব কানের আতশবাজি সাগরপাড় থেকে উপভোগ করেন অসংখ্য মানুষ।