পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন তাসখন্দে ১৫ থেকে ১৬ জুলাই অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল বুধবার উজবেকিস্তানে গেছেন। আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োইয়েভ আয়োজিত ‘সেন্ট্রাল অ্যান্ড সাউথ এশিয়া :রিজিওনাল কানেক্টিভিটি—চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপারচুনিটি’ শীর্ষক এই সম্মেলনে প্রায় ৪০টি দেশের সরকার প্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দেবেন। মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পরিবহন, লজিস্টিকস, জ্বালানি-শক্তি, বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও মানবিক বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থে কৌশল প্রণয়নে বহুমুখী আলোচনার জন্য একটি রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ প্ল্যাটফরম গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস যোগ দেবেন।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সম্মেলনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাণিজ্য, টিকাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে তার এই সফর সম্পর্কে বলেন, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক মস্কো সফর ও অস্ত্র চুক্তির ব্যাপারে আলাপের পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে ড. মোমেন জানান, জাতিসংঘের নতুন প্রস্তাব ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলবেন। কারণ নয়াদিল্লি এখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মোমেন জানান, মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব রয়েছে এবং এই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য পুনরায় অনুরোধ করবেন। এছাড়া দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও কীভাবে দৃঢ় করা যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা হবে। সম্মেলনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও বিমানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন। সোমবার তিনি দেশে ফিরবেন।
