গাজীপুরে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দুই জন গ্রেফতার, স্বীকারোক্তি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ০০:৪৩

গাজীপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃত দুই জনকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বুধবার পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো :নীলফামারী জেলার ডোমার থানার চিলাহাটি মাস্টার পাড়া এলাকার মৃত নবির উদ্দিনের ছেলে মো. সাঈদ ইসলাম (১৯) ও একই জেলা সদরের তিস্তা চৌরাটারি এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রনি মিয়া (২১)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পরিদর্শক মোহাম্মদ কাওছার উদ্দিন গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর থানাধীন বারেন্ডা পশ্চিমপাড়া এলাকার এক বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকত ঐ কিশোরী ও তার পরিবার। একই বাসায় পাশের রুমে ভাড়া থাকত রনি। পাশের বাড়িতে ভাড়া থাকত রনির বন্ধু মিলন, হাসান ও সাঈদ। বন্ধুত্বের সম্পর্কের সুবাদে রনিদের বাসায় তিন বেলা টাকার বিনিময়ে খাওয়াদাওয়া করত মিলন, হাসান ও সাঈদ। ভিকটিমের সঙ্গে মিলনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এদিকে ঐ কিশোরীকে পছন্দ করত মিলনের বন্ধু রনি ও সাঈদ। তারা বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিত এবং উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করত। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের নভেম্বর মাসে ভিকটিমের মা বাসাটি ছেড়ে দেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ৩১ অক্টোবর সকাল ৯টার পর সাঈদ নাস্তা খেতে রনির বাসায় যায়। এ সময় রনি ও সাঈদ ঐ কিশোরীর সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনানুযায়ী রনি খেলার ছলে ঐ কিশোরীর পরনের কাপড় খোলার চেষ্টা করলে কিশোরী বাঁধা দেয়। তখন সাঈদ ভিকটিমের পা ধরে রাখে ও রনি ভিকটিমের দুই হাত বেঁধে ভিকটিমের মুখে বালিশ চাপা দেয়। এরপর মেয়েটিকে প্রথমে রনি ধর্ষণ করে ও সাঈদ তার মোবাইলে রনির ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করে। পরে সাঈদ ঐ কিশোরীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে রনি ও সাঈদ মিলে শ্বাসরোধে ঐ কিশোরীকে হত্যা করে।

পরে হত্যার ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য তারা ঐ কিশোরীর লাশ তাদের ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। এ ঘটনায় গত বছর ৩১ অক্টোবর কাশিমপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। পরে ময়নাতদন্তে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পান চিকিত্সক। এ ঘটনায় গত ৩ জুলাই ঐ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে দুই আসামি রনি ও সাঈদকে গ্রেফতার করে।