দক্ষিণ আফ্রিকায় সহিংসতা, খাদ্য ও জ্বালানির সংকট

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ০০:৪৮

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিক্ষোভের সঙ্গে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭০ জনের বেশি হয়েছে। গত ছয় দিন ধরে চলা বিক্ষোভে খাবার ও জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট রামাফোসা জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরার

দীর্ঘ ২৭ বছর ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে চলা বিক্ষোভে ৭২ জন নিহত হয়েছে এবং সহস্রাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনিতেই করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে চলমান বিধিনিষেধে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থাকে ভয়াবহ সংকটের মুখে ফেলেছে। আবার বিক্ষোভ ও সহিংসতার জেরে কৃষিপণ্য আসছে না, তেল শোধনাগারগুলোর কয়েকটি বন্ধ হওয়ায় খাদ্য ও জ্বালানি উভয়ের ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

একটি কমিউনিটি রেডিও স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়ে সেটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য করা হয়। কিছু টিকাদান কেন্দ্রও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বেশির ভাগ মৃত্যু হয়েছে গৌতেং এবং কোয়াজুলু নাতাল প্রদেশে। খাবার, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, মদ এবং কাপড়ের দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন পদদলিত হয়ে মারা যায়। সোমবার রাতে সোয়েতোর একটি শপিং সেন্টারে লুটপাটের সময় এ ঘটনা ঘটে। আড়াই হাজার সেনা মোতায়েন করা হলেও বিক্ষোভ থামানো যাচ্ছে না। আদালত অবমাননার অভিযোগে সম্প্রতি জ্যাকব জুমাকে ১৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়।

এক বিবৃতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ জানিয়েছে, তারা ১২ সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছেন যারা দাঙ্গায় উসকানি দিয়েছে। এছাড়া সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ শেষ হওয়ার আগে ১৯৯০ এর দশকের পর তিনি এ ধরনের জঘন্য সহিংসতা দেখেননি। এতে আগুন দেওয়া হয়েছে, মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে এভাবে লুটপাট চলতে থাকলে ঐসব এলাকায় শিগিগরই প্রধান খাদ্য সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেবে।