বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি এবং মৃত্যু কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে ‘বজ্রপাত ও করণীয়’ শীর্ষক বিশেষ ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর। ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার। ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন উপ-কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপ-কমিটির সদস্য এবং আইইবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. রনক আহসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বজ্রপাত বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক মহাআতঙ্কে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার বজ্রপাতজনিত ক্ষয়ক্ষতি রোধে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা। বজ্রপাত থেকে রক্ষায় অন্যতম উপায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি। সরকার এই বিষয়ে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার ১০ লাখ তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। থাইল্যান্ডে তালগাছ লাগিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। ভিয়েতনামে মোবাইল টাওয়ারের আর্থিং সিস্টেমের মাধ্যমে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।
প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বৃদ্ধিতে বজ্রপাতের সংখ্যা ৫০ ভাগ বেড়ে যায়।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, বজ্রপাত এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ এবং পরিবেশবিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।
ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, যেসব এলাকায় বজ্রপাত বেশি হয় সেখানে লাইটনিং এরেস্টার স্থাপন করা প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
