জিলহজ মাসের প্রথম ১০ রাতের ইবাদত-বন্দেগি লাইলাতুল কদরের রাতের ইবাদত-বন্দেগির সমতুল্য। পবিত্র কোরআনুল কারিম ও হাদিসে রসুল দ্বারা এ বিষয়টি প্রমাণিত। জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদা, মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাতে গিয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা ফাজরের ১-২ নম্বর আয়াতের কথা বলা যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘শপথ প্রভাতের, শপথ ১০ রাত্রির।’ ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ ও ইকরামা (রহ.)-এর মতে, এই আয়াতে কারিমায় যে ১০ রাতের কথা বলা হয়েছে, তা দ্বারা জিলহজের প্রথম দশককেই বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে ইবনে কাসির ৪র্থ খণ্ড :৫৩৫)
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে। রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার কাছে জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় আর কোনো ইবাদত নেই। এ দিনগুলোর এক দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমতুল্য এবং এক রাতের ইবাদত শবেকদরের ইবাদততুল্য। (তিরমিজি খণ্ড ১, পৃ. ১৫৮)
জিলহজের এই ১০ দিনের মধ্যে শেষের দুদিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ; যাকে হাদিসের পরিভাষায় ‘ইয়াওমুল আরাফা’ ও ‘ইয়াওমুন নাহর’বলা হয়। এছাড়াও দুটি ইবাদত এ মাসের প্রথম দশককে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে তোলে। যে দুটি ইবাদত জিলহজ মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে আদায় করা সম্ভব নয়—তার একটি হলো জিলহজ আর অপরটি হলো কোরবানি। এছাড়া এ মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো—‘আরাফার দিন’; যেদিন (জিলহজ মাসের ‘আরাফা দিবসে হিজরতের দশম বছরে) ইসলাম পূর্ণতা লাভ করেছিল। আরাফার দিন রোজা পালন করা খুবই সওয়াবের কাজ। কেননা হজরত কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহ তাআলার কাছে আশাবাদী এই হিসেবে যে, ‘আরাফার দিনের রোজা আগের ও পরের এক বছরের গুনাহর কাফফারা হবে।’
ইমাম নববি (রহ) বলেন, এই দিনগুলোতে রোজা পালন করা মুস্তাহাব। বিশেষ করে যে ব্যক্তি হজে যায়নি তার জন্য ‘আরাফা দিবস তথা ৯ জিলহজে রোজা পালন করা মুস্তাহাব। জিলহজ মাসের চন্দ্র উদয় হওয়ার পর থেকে কোরবানি করার আগ পর্যন্ত চুল, দাড়ি, গোঁফ, নখ ও শরীরের অন্যান্য স্থানের লোম বা পশম না কাটা মুস্তাহাব।
হজ ও উমরাহ পালন করাও এ দশকের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। জিলহজ মাসের প্রথম দশকের দিনগুলোতে তাকবির (আল্লাহু আকবার), তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদু লিল্লাহ) ও তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পড়া সুন্নাত।
জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর প্রত্যেক বালেগ পুরুষ, মহিলা, মুকিম, মুসাফির প্রত্যেকের ওপর একবার করে তাকবিরে তাশরিক (আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ) পড়া ওয়াজিব। (ফাতাওয়ায়েশামি, ইলাউসসুনান, খণ্ড-৮, পৃ. ১৪৮)
lলেখক :সহকারী অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ, শেরপুর
