উখিয়ায় গ্রামীণ সড়কগুলো ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে। অবৈধভাবে পাহাড়কাটা মাটি ও বালু পাচারের জন্য ব্যবহূত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণেই মূলত কাঁচা রাস্তাগুলোর এমন দশা হয়েছে বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ। তারা জানান, পাহাড়ি ঢলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়।
রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিণমারা গ্রামের রিকশাশ্রমিক শাহাব উদ্দিন জানান, মাটির তৈরি কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করে মাটি ও বালুভর্তি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে তাদের একমাত্র আয়ের উত্স ভাড়ায় চালিত রিকশা রাস্তায় নামানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহজাহান জানান, হরিণমারা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ জনপদে অবস্থিত বন বিভাগের পাহাড় কেটে বালু ও মাটি পাচারের কাজে ব্যবহূত অর্ধশতাধিক ডাম্পার গাড়ি দিনরাত বেপরোয়ভাবে চলাচল করায় গ্রামীণ সড়কগুলোর অধিকাংশ স্থান নাজুক হয়ে পড়েছে। বর্ষায় মাটি-কাদায় এক অসহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। রিকশায় চলাচল দূরের কথা, মানুষ হাঁটাহাঁটিও করতে পারছে না।
হরিণমারা ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সুপার মুহাম্মদ নুরুল হক জানান, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রাজাপালং জাদিমুরা হয়ে দোছরী বড় খাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। দক্ষিণে হরিণমারা অংশের প্রায় ১ কিলোমিটারসহ সংযোগ সড়কের দুই কিলোমিটার ব্রিক সলিং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে হরিণমারা এলাকার পাঁচটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে ঘরবন্দি অবস্থায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এভাবে এ উপজেলার রত্নাপালং ইউপির ইউসুফ আলী সড়ক, তেলীপাড়া সড়ক, ভালুকিয়া সড়ক; রাজাপালং ইউপির ফলিয়াপাড়া সড়ক, কোর্টবাজার সৈকত সড়ক, হাজীরপাড়া সড়ক, দোছরী সড়ক, পালংখালীর আনজুমানপাড়া সড়ক, থাইংখালী ঘোনারপাড়া সড়ক, পালংখালী তেলখোলা সড়ক, বটতলী সড়কসহ অর্ধশতাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
রাজাপালং ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ শাহ কামাল চৌধুরী জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক কার্পেটিংয়ের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন-নিবেদন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে কাজ হয়নি। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী জানান, হরিণমারা এলাকায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক উন্নয়নের আওতায় আনার ব্যাপারে যাবতীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বরাদ্দ এলে কাজ শুরু করা হবে।
পাহাড় কেটে মাটি ও বালু পাচার-সংক্রান্ত ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মো. শফিউল আলম জানান, জনবলের সংকটের কারণে বালু ও মাটি পাচারকারী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না। তথাপি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মাটি ও বালু পাচারে ব্যবহূত ডাম্পার গাড়ি জব্দ করে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, অবৈধ বালু ও মাটি পাচার প্রতিরোধে প্রশাসন সক্রিয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে সম্পৃক্তদের আটক, বালু ও মাটিভর্তি গাড়ি জব্দ করে নগদ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল হুদার সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করলে সরেজমিন তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
