টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এখনো জমে উঠছে না কোরবানির পশুর হাট। দেশে দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনের কারণে আয় কমে গেছে শ্রমিকশ্রেণির মানুষের। কোনো রকমে জীবন যাপন করছেন তারা। এছাড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির হাতে টাকা নেই। তাই আসন্ন ঈদ সামনে রেখে কালিহাতীর বিভিন্ন হাটবাজার এবং মৌসুমি কোরবানির পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক পশু উঠলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। লাভ দূরের কথা, বড় অঙ্কের লোকসানের চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। অনেক খামারি বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব খামার। কর্মচারীর বেতন, পশু লালন-পালন বাবদও খরচ করেছেন অনেক টাকা। কিন্তু অন্য বছরের তুলনায় এ বছর চাহিদা অনেক কম। অনলাইনে পশু বেচাকেনার পদ্ধতি চালু করা হলেও অনেক খামারি ও ক্রেতারা এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত ধারণা রাখেন না। তাই পশু নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
দীর্ঘদিন পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে নিজ বাড়িতে খামার করেছেন উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের কাচিনা গ্রামের খামার ব্যবসায়ী মো. শামিম মিয়া। প্রায় তিন বছর ধরে এই ব্যবসা করেছেন তিনি। গত দুই বছর কোরবানির ঈদে তার লাভ হলেও এ বছর এখনো পর্যন্ত আশানুরূপ পশু বিক্রি না হওয়ায় চিন্তায় রয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, দু-এক জন ক্রেতা এলেও দাম অনেক কম। প্রায় একই কথা সব খামারির মুখে। তবে অনেকে বেশি আগে পশু কেনাকে ঝামেলা বলে মনে করেন। তাই ঈদের আগে চার-পাঁচ দিন এই বিক্রির পরিমাণ বাড়বে বলেও তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন।
এলেঙ্গা বাজার পশুর হাট পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এ বছর খাজনার (রওনা) পরিমাণ অনেক কম করেছি। জোরদার করেছি পাহারাব্যবস্থা, যাতে করে ক্রেতা-বিক্রেতারা সহজে কেনাবেচা করতে পারেন।’ এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘খামারিরা পশুর ছবিসহ সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা অনলাইনে বিক্রির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারব।’
