বগুড়ার দুই হাসপাতালে আইসিইউ সংকট

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ২১:১৮

বগুড়ায় করোনা রোগী শনাক্তের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ। সাধারণ শয্যার চাহিদাও বেড়েছে। অক্সিজেন সরবরাহ সংকটের কারণে আইসিইউ এবং সাধারণ শয্যাসংখ্যা বাড়াতে পারছে না ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল প্রশাসন। এ অবস্থায় অন্য জেলা থেকে করোনায় আক্রান্ত কোনো মুমূর্ষু রোগীকে বগুড়ার হাসপাতালে না পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সিভিল সার্জনদের মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা বগুড়া জেলার সরকারি দুই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) একটি শয্যাও খালি নেই। এর মধ্যে করোনা বিশেষায়িত ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা আটটি। গত বুধবার পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ২৬৪ জন। অন্যদিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা ২০টি। কয়েক দফায় বাড়ানোর পর হাসপাতালটিতে করোনা ওয়ার্ডে শয্যাসংখ্যা এখন ২৫০। বুধবার পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ২৭১ জন। বগুড়ার দুই হাসপাতালের চিকিত্সকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মুমূর্ষু রোগীর জন্য আইসিইউ শয্যা মিলছে না। অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলারও সংকট তৈরি হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে গত সোমবার রাতে শ্বাসকষ্টে মারা যান জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ফিরোজা বেগম (৬৭)। রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজন ফারুক হোসেন মঙ্গলবার সকালে বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে এক সপ্তাহ আগে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফিরোজা বেগমের অক্সিজেনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখন আইসিইউতে নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু কোনোভাবেই আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। নওগাঁর রাসেল মিয়া নামের একজন বলেন, তার বাবার অক্সিজেনের মাত্রা ৬৭তে নেমে আসায় গত মঙ্গলবার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তার বাবার আগে থেকে কিডনি ও ডায়াবেটিসের জটিলতা রয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থা হলেও শয্যা না থাকায় আইসিইউতে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা বিশেষায়িত এই হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে মাত্র ২০০ জনকে অক্সিজেন দেওয়া যায়। এছাড়া এখানে ১৫টি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা চালু আছে। এর বেশি রোগী ভর্তি থাকায় বাকিদের সিলিন্ডার অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও একই অবস্থা। সেখানে আসা জয়পুরহাটের এক রোগীর স্বজন মিজানুর রহমান (৪২) গত মঙ্গলবার বলেছিলেন, তার বাবার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তার বাবার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, বগুড়ার কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ শয্যা ফাঁকা নেই।

বগুড়ার সিভিল সার্জন গওসুল আজিম চৌধুরী বলেন, বগুড়ার হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে অন্য জেলার রোগীদের মুমূর্ষু অবস্থায় না পাঠানোর জন্য সিভিল সার্জনদের অনুরোধ করা হয়েছে। রোগী আরো বেড়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে।