ইউরোর ফাইনালের আগে এবং পরে যারা ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের বাইরে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং ইংলিশ তিন ফুটবলারের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে লন্ডনের পুলিশ। এরই মধ্যে সেই সব লোক খোঁজা শুরু হয়ে গেছে যারা ফুটবলারদের সম্পর্কে বাজে কথা ছড়াচ্ছেন। লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, তারা চার জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারদের নিয়ে বিষোদগার করেছেন। এক ডজনের বেশি তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে আরো গ্রেফতার অভিমানে নামবে লন্ডন পুলিশ। ইউরোর ফাইনালে ইতালি টাইব্রেকিংয়ে ৩-২ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। ৫৫ বছর পর ইংল্যান্ড বগ কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। আর এই না পারায় দোষ চাপানো হচ্ছে তিন ফুটবলারের দিকে। যারা টাইব্রেকিং শুটআউটে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গোল করতে না পারায় রাশফোর্ড ক্ষমা চেয়েছেন দর্শকের কাছে। আর সাকা বলেছেন, ‘আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের শৈশব হতে আমি ইংল্যান্ড নিয়ে স্বপ্ন দেখি। ক্লাব ফুটবলে আমি গোল করেছি। গোল করার জন্য আমি ক্লাব অনুশীলনের বাইরে বাড়তি অনুশীলন করি। কিন্তু ওয়েম্বলির মাঠে ফাইনালে গোল করতে পারিনি। এটা আমার ব্যর্থতা। রাশফোর্ড বলেছেন, আমরা গোল করতে পারিনি ঠিক। কিন্তু আমাদের গায়ের রং নিয়ে কথা বলা ঠিক না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্ণবৈষম্যমূলক কথা বলার কারণে ইংল্যান্ড ফুটবল দল হতাশ হয়েছে। অধিনায়ক হ্যারি কেইন এসব খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এসব দর্শককে ফুটবল হতে বহিষ্কার করা উচিত। বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণে বিশ্ব ফুটবলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফরাসি ফুটবলার পল পগবা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্ট সাকা, রাশফোর্ড, সানচোদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বর্ণবাদ আচরণের জন্য উসাইন বোল্ট বলেছেন, এটা মানব সভ্যতার জন্য খুবই ভয়ংকর।
