কাওরান বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ে জড়িত কথিত ‘দাদা বাহিনী’-এর অন্যতম সদস্য মজিদ অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছে। শ্রমিক লীগ নেতা মো. মজিবুর রহমান শেখ ওরফে মজিদ ওরফে রাসেলকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার দক্ষিণ বেগুনবাড়ী এলাকা থেকে বুধবার গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগের একটি টিম। মজিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে রিয়েছে ডিবি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহাদত হোসেন সূমা, জানান, কথিত এই দাদা বাহিনীর সদস্যরা কাওরান বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করত। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার লোকজন চাপাতি ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করত। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিম।
তিনি আরো বলেন, মামলা তদন্তকালে গত বছরই তাদের দুজন সদস্যকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই বাহিনীর মজিদসহ বেশ কয়েক জনের নাম পাওয়া যায়। সেই তথ্যমতে বুধবার বেগুনবাড়ী এলাকা থেকে মজিদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মজিদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় অস্ত্র আইনে আরো একটি মামলা হয়েছে বলে জানান গোয়েন্দা এই পুলিশ কর্মকর্তা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কথিত দাদা বাহিনীর সদস্য প্রায় ৬০০। এরা কাওরান বাজার এলাকায় প্রতিদিন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। এরা কাঁচামাল ব্যবসা, আড়ত, ট্রাক, ফুটপাতের দোকান ছাড়াও এলাকার মাদক ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। দাদা বাহিনীর অন্যতম সদস্যদের মধ্যে রয়েছে মনিরুজ্জামান মনির, ফারুক ভুইয়া, কবির, সুমন, দুলাল ও কানা জসিম। এরা সরকার দলীয় বিভিন্ন সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায় করে থাকে।
এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কাওরান বাজারে চাঁদাবাজি ওপেন সিক্রেট। প্রাণ ভয়ে কেউ টুঁ শব্দ করে না। এদের অনেকের সঙ্গে আবার স্থানীয় থানা পুলিশের যোগাযোগ রয়েছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়। কাওরান বাজার রেল সড়ক এলাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা এদের সহায়তায় মাদক ব্যবসায়ীরা গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি করে থাকে।
‘দাদা ভাই’-এর পরিচয় সম্পর্কে ঐ ব্যবসায়ী বলেন, ভারতে আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী আশীক এক সময় দাদা ভাই হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু আসল দাদা ভাইয়ের নাম কেউ উচ্চারণ করতে চায় না। কারণ তিনি এতই প্রভাবশালী যে তার টিকি স্পর্শ করার সাহস কারো নেই।
