সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী বলেছেন, ‘আজ আমার বিচারিক জীবনের ইতি টানছি। এই মুহূর্তে একটি দাবি রেখে যেতে চাই যে, বিচারপ্রার্থীদের এই স্বর্গীয় আশ্রয়স্থল বিচারালয় কোনো অবস্থাতেই যেন বাণিজ্যালয় হিসেবে পরিণত না হয়। এটা বার ও বেঞ্চ উভয়কে শক্তভাবে রুখতে হবে। সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন একটি সুস্থ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিচার বিভাগের অবকাঠামো আমরা রচনা করে যাই।’ গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দেওয়া বিদায় সংবর্ধনার জবাবে বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী এ সব কথা বলেন। ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ এবং প্রায় দুই শত আইনজীবী যুক্ত ছিলেন।
বিচারপতি আবু বকর বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চিরন্তন প্রেরণার উত্স। জন্ম থেকে জন্মান্তরে তার আদর্শ ছড়িয়ে পড়ুক। সেই আদর্শের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠুক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। তিনি বলেন, আইনের শাসন ছাড়া কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। দেশে যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা চলছে তার অংশীদার হবে বিচার বিভাগ। তিনি বলেন, ‘৪১ বছরের এই দীর্ঘ বিচারিক জীবনে কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি তার বিচারের ভার আপনাদের ওপর ন্যস্ত। এই দীর্ঘ সময়ে আমার স্ত্রী অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তার এই ত্যাগের ফলে আমার এই বিচারিক জীবন অনেকটাই সুন্দর ছিল।’
এর আগে বিচারপতি আবু বকরের প্রতি বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার রমানাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এলএলবি পাশ করে ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া বার অ্যাসোসিয়েশনে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮০ সালে তিনি জুডিশিয়াল সার্ভিসে মুন্সেফ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০৯ সালে তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১১ সালে হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন। ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। আগামী ২৯ জুলাই তিনি অবসরে যাবেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে অবকাশ শুরু হওয়ায় গতকাল তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
