সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যাবার্ষিকী আজ

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ২২:১২

যশোরের শহিদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যাকাণ্ডের পর ২১ বছর পার হলেও ঘাতকদের বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি। বরং গত ১৬ বছর ধরে আইনের মারপ্যাঁচে আটকে রয়েছে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া। বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিহতের পরিবার ও যশোরের সাংবাদিক সমাজ। যদিও সরকার চাইলেই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব বলে মন্তব্য আইনজীবীদের। আজ শুক্রবার (১৬ জুলাই) নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ২১তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। প্রথিতযশা সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল ২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে জনকণ্ঠ যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০১ সালে সিআইডি পুলিশ এই মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার বর্ধিত তদন্ত করে আরো একজনকে নতুন করে আসামি করা হয়। একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বাদ দিয়ে সাক্ষী করা হয় আসামিদের ঘনিষ্ঠজনদেরকে। এতে একদিকে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়; অন্যদিকে দুর্বল হয়ে যায় চার্জশিট। এরপর বিতর্কিত ঐ বর্ধিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০০৫ সালের জুন মাসে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন হয়।

ঐ বছরের জুলাই মাসে বাদীর মতামত ছাড়াই মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এ অবস্থায় মামলার বাদী শামছুর রহমানের সহধর্মিণী সেলিনা আকতার লাকি বিচারিক আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্ট মামলাটি কেন যশোরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না তার জন্য সরকারের ওপর রুল জারি করে। এছাড়া মামলায় বর্ধিত তদন্তে সংযুক্ত আসামি উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। সেই রিটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

নিহতের সহোদর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন জেইউজের সাবেক সভাপতি সাজেদ রহমান জানান, একাধিক বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্কালে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে শামছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হয়। কিন্তু এ নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।